সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত সাড়ে চার হাজার ছুঁইছুঁই হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের বড় হামলা ইরানজুড়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ফের হামলা মার্কিন বাহিনীর বরিশালে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হরমুজ প্রণালি এড়াতে যৌথ পাইপলাইন পরিকল্পনা সিরিয়া-ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংককের একটি বারে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৭ ইরানের বিভক্ত সরকার ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে : জন বোল্টন ইরানের টার্গেট তালিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতারা? জার্মানিতে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ ৬২ দেশের, তালিকায় কী আছে বাংলাদেশ

দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত অতুলনীয়

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১১০ Time View

ডেস্ক নিউজ : দারিদ্র্য বিমোচন ও সমাজের ধনী-গরিব পার্থক্য কমিয়ে আনতে ইসলামের জাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অতুলনীয়। দুনিয়ার কোনো সমাজ ব্যবস্থায় দারিদ্র্য বিমোচনের এমন সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই, যা আছে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায়। জাকাত হচ্ছে একটি আর্থিক ইবাদত। ব্যক্তির ধন-সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিব, মিসকিন ও অভাবী লোকের মধ্যে বণ্টন করাকে জাকাত বলা হয়। নামাজ বা সালাতের পর ইসলামের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ জাকাত। দ্বিতীয় হিজরিতে মদিনায় জাকাত ফরজ হয়। নামাজ ও রোজার মতো জাকাত সব মুসলমানের ওপর ফরজ নয়। জাকাত ধনীদের জন্য ফরজ। যাদের কাছে বার্ষিক যাবতীয় খরচের পর সাড়ে ৭ তোলা পরিমাণ সোনার সমমূল্যের সম্পদ কিংবা ৫২.৫ তোলা পরিমাণ রুপা বা রুপার সমমূল্যের সম্পদ গচ্ছিত থাকে তাদের জাকাত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি জাকাত। জাকাত আদায় যাদের জন্য ফরজ তারা তা আদায় না করলে আখিরাতে কঠিন সাজার সম্মুখীন হতে হবে। আল কোরআনে সালাত বা নামাজ আদায়ের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। অবস্থাপন্ন মোমিনদের জন্য জাকাত আদায় যে বাধ্যতামূলক তা বোঝাতে জাকাতের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত দরিদ্র আত্মীয়স্বজন, দুস্থজন জাকাতের প্রধান দাবিদার। আল কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা, ‘নিশ্চয়ই সাদাকাহ (জাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও জাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটাই আল্লাহর বিধান।’ (সুরা তওবা, আয়াত ৬০)

আল্লাহ রব্বুল আলামিন কোরআনে জাকাতের প্রাপক হিসেবে আরেক বিশেষ শ্রেণির দাবিদারের কথা বলেছেন। সুরা বাকারার ২৭৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ইহা প্রাপ্য অভাবগ্রস্ত লোকেরা, যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে দেশময় ঘোরাফেরা করতে পারে না; যাচ্ঞা না করার জন্য অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত মনে করে, তুমি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে। এরা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না। যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।’

কোরআনের আলোকে জাকাত পাওয়ার যোগ্যদের মধ্যে আছেন :

নিঃস্ব ফকির যার কোনো সম্পদ নেই, নেই তার উপযোগী হালাল উপার্জন, যা দিয়ে সে তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। যার খাওয়া-পরা ও থাকার স্থান নেই। অভাবগ্রস্ত মিসকিন যার এমন পরিমাণ সম্পদ আছে যা তার ওপর নির্ভরশীল লোকদের প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট নয়। যার কিছু সম্পদ আছে কিন্তু লজ্জা-সম্মানের ভয়ে কারও কাছে হাত পাতে না। তারা জীবন-জীবিকার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানোর পরও প্রয়োজনমতো উপার্জন করতে পারে না। এত কিছুর পরও নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারে না।

মালিককে অর্থ প্রদানের বিনিময়ে যে ক্রীতদাস মুক্তিলাভের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, তিনি জাকাত পাওয়ার যোগ্য। এখানে এ পর্যায়ে মুসলিম যুদ্ধবন্দিও এ খাতের আওতায় পড়বে। কাজী ইবনুল আরাবি বলেন, মুসলিম দাসকে যখন মুক্ত করতে জাকাতের খাত থেকে দেওয়া যাবে, ঠিক তেমনি মুসলিম বন্দিকেও কাফিরদের দাসত্ব-শৃঙ্খলা ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত করার কাজে জাকাতের অর্থ ব্যয় করা অধিক উত্তম বলে বিবেচিত হবে।

ঋণ ভারাক্রান্তে জর্জরিত অবস্থায় নিপতিত ব্যক্তি জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত। তবে যে কোনো অসৎ কাজে বা অপব্যয়ের কারণে ঋণ ভারাক্রান্ত হয়েছে তওবা না করা পর্যন্ত জাকাতের ফান্ড তাকে দেওয়া যাবে না। আবার ঋণ ভারাক্রান্ত এর পর্যায়ে যেমন জীবিত ব্যক্তি শামিল, তেমনি মৃত ব্যক্তিও এর আওতায় পড়ে, মৃত ব্যক্তি যিনি ঋণ রেখে মারা গেছেন। ইমাম কুরতুবি (রহ.)ও তা-ই বলেছেন।

মুসাফির এমন ব্যক্তি যার নিজ আবাসস্থলে সম্পদ আছে, কিন্তু সফরে তিনি বিপদগ্রস্ত ও নিঃস্ব অবস্থায় আছেন তাকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে তার সফর পাপের কাজ বা অনুরূপ পর্যায়ের কোনো সফর হওয়া যাবে না। তাবারি (রহ.) হজরত মুজাহিদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, জাকাতের সম্পদ ধনীর হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের নিঃস্ব পথিকেরও একটি হক রয়েছে। যদি সে তার নিজের ধনসম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বা পরিবার আছে যারা সামাজিক মানমর্যাদার কারণে সাহায্যপ্রার্থী হতে পারে না কিংবা তারা সাহায্য চাইতে সংকোচে ভোগে, অথচ তাদের দেখলে বোঝা যায় তারা দৈন্যদশায় আছে এবং তাদের সাহায্যের প্রয়োজন। জাকাত আদায়ের সময় তাদের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কৃপণ ও দান-খয়রাতকারী দুই ব্যক্তি এমন দুই ব্যক্তির সঙ্গে তুলনীয় যাদের পরিধানে রয়েছে লৌহবর্ম। তাদের উভয়ের হাত বুক ও কণ্ঠনালির মাঝখানে আটকে আছে। দান-খয়রাতকারী ব্যক্তি যখনই দান-খয়রাত করে তখনই তার লৌহবর্ম প্রশস্ত হয়ে যায়। আর কৃপণ যখনই দান-খয়রাতের ইচ্ছা করে তখনই তার লৌহবর্ম আরও সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং এর প্রতিটি বৃত্ত স্ব-স্ব স্থানে অনড় হয়ে থাকে।’ (মুসলিম)। জাকাত হলো ধনীর সম্পদে গরিবের হক। জাকাতকে কোনোভাবেই গরিবের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্য বা দান-খয়রাত ভাবা উচিত নয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জাকাত আদায়ের তৌফিক দান করুন।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আমেনা খাতুন হাফেজিয়া কোরআন রিসার্চ অ্যান্ড ক্যাডেট ইনস্টিটিউট, কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ

কিউএনবি/অনিমা/২০ এপ্রিল ২০২৩,/সকাল ৮:১১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit