ডেস্ক নিইজ : নিকট অতীতের সব ঈদের ছুটিতে রাস্তায় মৃত্যুমিছিল ক্রমেই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়ে সমাজে এর প্রচ্ছন্ন এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতাও তৈরি করে ফেলেছে। আর সড়কে দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল।
মোবাইল নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অন্তত কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন; এর বাইরেও আন্তঃজেলায় যাতায়াত করবেন সাড়ে পাঁচ কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ চলাচল নিয়ে যৌক্তিক শঙ্কা তৈরি হয়েছে আর সে কথাই সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এর আগের ঈদুল ফিতরের ১৪ দিনে ২৮৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৭৬ জন। আহত হন অন্তত দেড় হাজার। এবারের ঈদযাত্রায়ও একই রকম প্রাণহানির শঙ্কা করছে তারা।
আবার যাত্রী কল্যাণ সমিতি এক হিসাবের কথা জানিয়ে বলেছে, সর্বশেষ ঈদুল আজহায় ৭ বছরের সর্বোচ্চ সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে; সে সময় সড়কে নিহত হন ৩৯৮ জন।
সড়ক নিরাপত্তা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রায় বেপরোয়া গতিতে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি বেশি হয়। স্বল্পসময়ের মধ্যে অনেক বেশি মানুষ এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাতায়াত করতে চান, যে কারণে গণপরিবহনের ওপর চাপ তৈরি হয়।
আর দূরপাল্লার যাত্রায় মোটরসাইকেল ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও অনেকেই মোটরসাইকেলে স্থানত্যাগ করে ধর্মীয় উদযাপনে প্রিয়জনদের সঙ্গে শামিল হতে চান জানিয়ে সড়ক নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন দেশব্যাপী সড়ক নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটের সুযোগে তিন চাকার ধীরগতির যানবাহন চলাচল এবং চালকদের বিরতিহীন গাড়ি চালানোও দুর্ঘটনার কারণ।
এর বাইরে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের একাংশ ছুটিতে থাকায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা সময় লাগে জানিয়ে তারা বলছেন, সব পক্ষকেই নিজ অবস্থান থেকে ব্যবস্থা নিয়ে ঈদযাত্রায় প্রাণহানি কমাতে হবে।
বিবৃতিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দাবি করছে, ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের ওপর প্রতি ৫ কিলোমিটার গতি বৃদ্ধির কারণে দুর্ঘটনা ঝুঁকি ২ থেকে ৪ গুণ বেড়ে যায়।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ এপ্রিল ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৪০