শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

জাকাত আদায় প্রকৃত মুমিনের পরিচয়

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১১৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : জাকাত ইসলামের মূল ভিতের অন্যতম একটি। এটি আবশ্যকীয় আর্থিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। আর ভিত বলা হয় ওই বস্তুকে যাকে নির্ভর করে মূল বস্তুটি গড়ে ওঠে। হাদিস শরিফে জাকাতকে ইসলামের ভিত উল্লেখ করে বিশ্বনবী (সা.) বলেন, ইসলামের মূল স্তম্ভ পাঁচটি। ১. আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল—এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা, ২. সালাত কায়েম করা, ৩. জাকাত আদায় করা, ৪. হজ করা এবং ৫. রমজানের রোজা রাখা। (বুখারি, হাদিস : ৮)

জাকাতের প্রধান ও মূল উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর বিধান পালনের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন। যাদের সম্পদ অর্জনের কোনো যোগ্যতা বা সামর্থ্য ও সুযোগ নেই কিংবা পূর্বসূরিদের কাছ থেকে জীবন ধারণের জন্য যা প্রয়োজন তা পাওয়ার সুযোগ নেই তাদের অধিকার আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন ধনীদের সম্পদে। যারা তা আদায় করবে তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত উপকারিতা এবং মহা প্রতিদান। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদের মহাপুরস্কার দেব।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৬২)

জাকাত আদায় প্রকৃত মুমিনের পরিচয়

এক বর্ণনায় নবী করিম (সা.) জাকাতকে দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘সালাত হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। সদকা তথা জাকাত হচ্ছে দলিল। ধৈর্য হচ্ছে জ্যোতির্ময়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪২২)

তাই একনিষ্ঠভাবে জাকাত প্রদান করা প্রকৃত মুমিনেরই পরিচয়।

অন্তরের আত্মশুদ্ধি

জাকাত আদায়ের আরেকটি সুফল বা উপকারিতা হচ্ছে, অন্তরের আত্মশুদ্ধি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(হে নবী) আপনি তাদের ধন-সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে দেবেন এবং তাদের জন্য দোয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তি। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১০৩)

এখানে পবিত্র করার ব্যাখ্যা হচ্ছে, কৃপণতা, দুনিয়ার আসক্তি ও ধন-সম্পদের মোহ থেকে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা। সারা জীবন শুধু সম্পদ অর্জনের পেছনে ব্যয় করা থেকে নিজেকে সামান্য অব্যাহতি দেওয়া।

ধন-সম্পদে পবিত্রতা ও বরকত লাভ

জাকাত শব্দটি আরবি। এর অর্থ হলো পবিত্র করা। যেহেতু এটি মানুষের ধন-সম্পদকে পবিত্র করে বরকতময় করে তোলে, তাই একে পরিভাষায় জাকাত বলা হয়। মুসনাদে আহমদের বর্ণনা, আনাস (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমি সম্পদশালী ও আমার আত্মীয়-স্বজনও অনেক। আর আমি শহরে বাস করি। আমাকে বলুন, কিভাবে নিজের সম্পদ ব্যয় করব? তিনি বলেন, জাকাত আদায় করবে। কারণ জাকাত হলো সম্পদের পবিত্রতা, তা তোমাকে পবিত্র করবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে। অসহায়, মিসকিন, প্রতিবেশী ও অভাবীদের হকের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১২৩৯৪)

জাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনীদের মধ্যে এই অনুভূতি সৃষ্টি হয় যে সামাজিক  উন্নয়নে তাদের অনেক বড় দায়িত্ব আছে। সাধ্যানুযায়ী সবার উচিত নিজ নিজ কর্তব্য পালন করা। যার ফলে ধনী-গরিবের মধ্যকার ব্যবধান দূর হয় এবং সামাজিক সমপ্রীতি গড়ে ওঠে। আর দরিদ্র মানুষের মনে এ অনুভূতি সৃষ্টি হয় যে শুধু অভাবী হওয়ার কারণে সে অবহেলিত নয়। মানুষের হক প্রদানে অবশ্যই তার প্রতি সম্মানজনক মনোভাব রাখতে হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৭ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৯:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit