আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে মনে করে চীন। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের (প্রতিনিধি পরিষদ) স্পিকার কেভিন ম্যাককার্থির সঙ্গে বৈঠক করেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই-ইং ওয়েন। ওয়েনের ওই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের চারপাশে তিনদিনের যুদ্ধের মহড়া শুরু করে চীনা সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। গত সোমবার (১০ এপ্রিল) ওই মহড়াকে সফল দাবি করে এর সমাপ্তি ঘোষণা করে বেইজিং।
তবে তাইওয়ানের অভিযোগ, মহড়া শেষ হওয়ার পরও চীনের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানগুলো তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায় অবস্থান করছে। বেইজিংয়ের এমন আচরণকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এখনও চীনের ৯টি যুদ্ধজাহাজ এবং ২৬টি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের চারপাশে টহল দিচ্ছে। তাইপের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে এগুলো সেখানে মোতায়েন করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তাইওয়ানের বিমান ও নৌবাহিনী গোটা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও। এদিকে তাইওয়ানের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তাইওয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে তাইওয়ান। সম্প্রতি বাইডেন প্রশাসন তাইওয়ানকে অস্ত্রের আরও নয়টি চালান সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে তাইওয়ানে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কার কথাও জানান মুখপাত্র। আর তাই এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড থেকে চীনকে বিরত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৯:২০