ডেস্ক নিউজ : রোববার (৯ এপ্রিল) গুজরাটের বিপক্ষে নিশ্চিত হারের প্রহর গুনছিল কলকাতা। রশিদ খানের হ্যাটট্রিক তাদের ছিটকে দিয়েছিল ম্যাচ থেকে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য কলকাতার দরকার ২৯ রান। ক্রিকেটে ছয় বলে ছয় ছক্কার ঘটনা থাকলেও শেষ ওভারে এত রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই আর একটিও। ৭ উইকেট হারানো কলকাতার হার তাই একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল।
কিন্তু যশ দয়ালের করা শেষ ওভারে রিঙ্কু হয়ে ওঠেন অতিমানবীয়। আগের ১৬ বলে ১৮ রান তোলা উত্তর প্রদেশের এই ব্যাটার টানা পাঁচ বলেই হাঁকান ছক্কা। তাতে অসম্ভবকে সম্ভব করে জয় পায় কলকাতা। ক্রিকেট ইতিহাসেই রান তাড়া করার ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা রূপকথার জন্ম দেন তিনি। এমন রূপকথার জন্ম যে ব্যাটে, সে ব্যাটটাই নাকি রিঙ্কুর নয়। নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটাই তিনি খেলেছেন আরেকজনের ব্যাট দিয়ে। অধিনায়ক নিতিশ রানার ব্যাট ‘চুরি’ করে পাঁচ ছক্কার ইনিংস উপহার দিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার।
ম্যাচের পর কলকাতার অধিনায়ক নিতিশ এক ভিডিওতে ফাঁস করেছেন এই রহস্য। একটি ব্যাট হাতে ভিডিওতে এসে তিনি বলেন, ‘এই ব্যাট দিয়েই আগের দুটি ম্যাচ খেলেছি। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে পুরো মৌসুম এই ব্যাটে খেলেছি। রিঙ্কু ব্যাটটা চেয়েছিল। দিতে চাইনি। কিন্তু ভেতর থেকে কেউ একজন ব্যাটটা ওকে এনে দেয়। আমার দেখেই মনে হয়েছে, এটা আমার ব্যাট। এই ব্যাটটা বেশ হালকা এবং পিকআপটাও চমৎকার। এখন তো এটা রিঙ্কুর ব্যাটই হয়ে গেল। আমার আর নেই ওটা।’
উত্তর প্রদেশের নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান রিঙ্কুর সঙ্গে দিল্লিতে জন্ম নেয়া নিতিশের বন্ধুত্বটা বেশ জমাট। কেকেআরকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেয়ার পর মাঠের বাইরে থেকে ছুটে আসেন নিতিশ। অপর দিক থেকে ছুটে আসা রিঙ্কুকে কোলে তুলে নেন তিনি। ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়া অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার যখন রিঙ্কুর সঙ্গে কথা বলছিলেন তখনও রিঙ্কুর গলা জড়িয়ে ছিলেন নিতিশ।
কিউএনবি/আয়শা/১০ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৯:০৪