স্পোর্টস ডেস্ক : ঈদ কী?
ঈদ আরবি শব্দ। বাংলায় খুশি বা আনন্দ-উৎসবকে বোঝায়। আর ফিতর অর্থ রোজা ভাঙা, খাওয়া ইত্যাদি। তাহলে ঈদুল ফিতরের অর্থ দাঁড়ায় রোজা শেষ হওয়ার খুশি বা আনন্দ-উৎসব।
ঈদুল ফিতর
আল্লাহ তাআলার একান্ত রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত পেতে মাসব্যাপী রোজা পালনের পর মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। একজন রোজাদারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো আল্লাহ তাআলার আদেশ অনুযায়ী মাসব্যাপী রোজা রাখতে পারা। আল্লাহ তাআলা যাকে তাওফিক দিয়েছেন।
রমজানের রোজা রাখার এ খুশি প্রকাশ করতেই শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদের আনন্দে মিলিত হয় মুমিন মুসলমান। আর এই দিনটির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুমিনের জন্য সব বৈধ খাবার-পানীয় ও কাজকর্ম আগের মতো হালাল করে দিয়েছেন। রোজা রাখার কারণে যা থেকে দিনের বেলা বিরত ছিলেন মুমিন মুসলমান।
মুসলিম উম্মাহ বছরে দুটি ঈদ পালন করে থাকে। তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। রমজানের এক মাস রোজা পালনের পর ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করা হয়। আর অপরটি হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের স্মৃতিবিজড়িত হজের মাসের ১০ জিলহজ পশু কোরবানির মাধ্যমে উদ্যাপন করা হয়।
ঈদের দিন ফজরের নামাজ জামাতে পড়া
হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি তারা এশা ও ফজর নামাজের মধ্যে কী আছে তা জানত তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দুটি নামাজের জামাতে উপস্থিত হতো।
(বুখারি ও মুসলিম)
ঈদের দিন গোসল
ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসল করে নিতে হবে। হজরত ইবনে ওমর রাদিয়ালাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।
ঈদের দিন উত্তম পোশাক পরা
ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ঈদের জামাতে যাওয়ার আগে সর্বোত্তম পোশাক পরতে হবে। হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি দুই ঈদের দিনে সর্বোত্তম পোশাক পরতেন। (বায়হাকি)
সুগন্ধি ব্যবহার ও সাজসজ্জা গ্রহণ
এদিন সব মানুষ ঈদগাহে একত্রিত হয়, তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত হলো আল্লাহর নিয়ামত এবং তার শুকরিয়া আদায়স্বরূপ নিজেকে সর্বোত্তম সাজে সজ্জিত করা।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা তার বান্দার ওপর প্রদত্ত নিয়ামতের প্রকাশ দেখতে পছন্দ করেন।’
ঈদের তাকবির
ঈদের চাঁদ তথা শাওয়ালের চাঁদ দেখার পর প্রথম সুন্নাত কাজ তাকবির পড়া। এ তাকবির ঈদের দিন নামাজের সময় পর্যন্ত পড়তে হয়।
ঈদের আগে ফিতরা আদায়
ঈদের পূর্বে প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী, শিশু এমনকি সদ্য জন্মলাভকারী শিশুর জন্যও নির্ধারিত ফিতরা আদায় করা জরুরি।
ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া
ঈদের দিন নামাজ আদায়ের জন্য ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া উত্তম। যদি ওজর থাকে তা ভিন্ন কথা। কেননা, ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া সুন্নত।
এক পথে গিয়ে অন্য পথে আসা
ঈদগাহে এক পথে গিয়ে অন্য পথে ফিরে আসা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন পথ বিপরীত করতেন। (বুখারি)। অর্থাৎ যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে না এসে অন্য পথে বাড়ি ফিরে আসতেন। এটার হিকমত হচ্ছে: যাতে উভয় পথের লোকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।
ঈদের তোহফা
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ঈদী বা ঈদের উপহার বিতরণ করা মুসলমানদের মধ্যে চালু হয়ে আসছে। ঈদের খুশিতে আত্মীয়-অনাত্মীয় পরস্পরকে তোহফা বিনিময় করে থাকে, এটি একটি ভালো রীতি। এতে পরস্পরের আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। কাপড়-চোপড়, দ্রব্যাদি, টাকা-পয়সা ইত্যাদি ঈদের তোহফা হিসেবে বিতরণ করা হয়ে থাকে।
ঈদের নামাজ
ঈদের নামাজের মাধ্যমেই ঈদের প্রকৃত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ঈদের সব প্রস্তুতি মূলত 0আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে শুকরিয়াস্বরূপ দুই রাকত নামাজ পড়ার মাধ্যমে। সকাল-সকাল খোলা মাঠে অথবা মসজিদে এই দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়।
নামাজের পর খুতবা শোনা
(আবু দাউদ)
ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে মিষ্টান্ন খাওয়া
কিউএনবি/আয়শা/১০ এপ্রিল ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৪৫