স্পোর্টস ডেস্ক : শনিবার (৮ এপ্রিল) গুয়াহাটিতে ২০০ রান তাড়া করতে নেমে দিল্লির ইনিংস থেমেছে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানে। দলের হয়ে অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নরের ৬৫ আর ললিত যাদবের ৩৮ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য ইনিংস ছিল না আর কারও।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংস শুরুর প্রথম ওভারেই কোনো রান তোলার আগে ইম্প্যাক্ট ক্রিকেটার হিসেবে নামা পৃথ্বিশ ও মনিশ পান্ডের উইকেট হারায় দিল্লি। পরপর দুই বলে তাদের ফেরান কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। তৃতীয় উইকেটে ওয়ার্নার হাল ধরার চেষ্টা করলেও তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি রাইলি রুশো। তিনি ফিরে যান ১২ বলে ১৪ রানের ইনিংস খেলে।
শুরুর ধাক্কা সামলে চতুর্থ উইকেটে ওয়ার্নার ও ললিত মিলে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। দুজনের জুটিতে আসে ৬৪ রান। কিন্তু ইনিংসের ১৩তম ওভারে দলীয় ১০০ রানে ললিত আউট হলে আবার ছন্দ হারায় দিল্লি। একপাশ ওয়ার্নার আগলে রাখলেও তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন অক্ষর প্যাটেল, রভম্যান পাওয়েল ও অভিষেক পোরেল। সতীর্থদের আসা যাওয়ার মাঝে ওয়ার্নার ৫৫ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেললেও সেটা কাজে লাগেনি রান তাড়ায়।
তবে দলের প্রয়োজনে না লাগলেও এদিন আইপিএলে নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ওয়ার্নার। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির ইতিহাসে বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ানের পরে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে করেছেন ছয় হাজার রান। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিল্লি।
রাজস্থানের হয়ে ৩টি করে উইকেট তুলে নেন ট্রেন্ট বোল্ট ও যুজবেন্দ্র চাহাল। দুই উইকেট নিজের পকেটে পুরেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে যশস্বী জয়সওয়াল ও জস বাটলারের ব্যাটিং নৈপুণ্যে নির্ধারিত ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান করে রাজস্থান।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চড়াও হন জয়সওয়াল। ৩১ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় তিনি যখন ৬০ রানে থামেন তখন মাত্র ৮.৩ ওভারে রাজস্থানের ইনিংস দাঁড়ায় ৯৮ রানে। দিল্লির বোলাররা পর পর সানজু স্যামসন ও রিয়ান পরগকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করলেও বাটলার সেটা হতে দেননি। এ ব্যাটার ১৯তম ওভার পর্যন্ত ক্রিজে থেকে ৫১ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ৭৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। শেষদিকে শিমরন হেটমায়ারের অপরাজিত ২১ বলে ৩৯ রানের ব্যাটিং তাণ্ডবে দিল্লির সামনে টার্গেটটা ২০০ দাঁড় করায় রাজস্থান।
এদিন বল হাতে সুবিধা করতে পারেনি দিল্লির বোলাররা। ৩৬ রান খরচায় সর্বোচ্চ ২ উইকেট তুলে নেন মুকেশ কুমার। উইকেটশূন্য এনরিখ নরকিয়া খরচ করেন ৪৪ রান। এ নিয়ে আসরে নিজেদের তিন ম্যাচের সবকটিতে হারল দিল্লি। এর আগে প্রথম ম্যাচে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ৫০ রানে আর দ্বিতীয় ম্যাচে গুজরাট টাইন্সের বিপক্ষে ৬ উইকেটে হেরেছিল তারা। সবগুলো ম্যাচই বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন টাইগার পেসার মুস্তাফিজ।
কিউএনবি/আয়শা/০৮ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৯:৩৩