স্পোর্টস ডেস্ক : অর্থ সংকট দেখিয়ে সাফজয়ী নারী জাতীয় ফুটবল দলকে মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাই পর্বে খেলতে না পাঠানোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এ নিয়ে সমালোচনায় উত্তর গোটা ক্রীড়াঙ্গন। এবার বাফুফের কর্মকর্তাদের সরাসরি সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। মাত্র ২০ লাখ টাকার জন্য মেয়েদের খেলার সুযোগ বঞ্চিত করাটা দেশের জন্য বড় লজ্জার পাপনের মতে।
ছেলেদের ফুটবল তলানিতে ঠেকেছে। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলা মেয়েদের ফুটবলকেও এবার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার পথে হাঁটছে বাফুফে। দীর্ঘ ১৬ বছর বাফুফের সভাপতির আসনে থেকেও অর্থ সংকটের অজুহাত দিয়ে মেয়েদের দলকে মিয়ানমারে খেলতে পাঠাতে না পারার দায়টা এড়াতে পারেন না কাজী সালাউদ্দিন।
এ নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি চেয়েছিলেন নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে। সেটা করতে গিয়ে উল্টো নিজের সব ব্যর্থতার দায় চাপিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের ওপর। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও এর সভাপতি পাপনকেও খোঁচা মেরেছেন পরোক্ষভাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে সালাউদ্দিন বলেছিলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ফুটবলেরও প্রিয়। সবার ব্যক্তিত্ব তো এক না। আমি তো লোক দেখিয়ে বলব না, এই প্রধানমন্ত্রী ফোন দিয়েছে। আমি ওইরকম না। আপনাদের বুঝতে হবে। আমি ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি। স্বাধীনতা থেকে আজ পর্যন্ত। আমি ওই নাটক করতে পারব না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে তার শ্রদ্ধা দেব। আমি লোক দেখাতে পারব না। দুঃখিত, এটাই আমার চরিত্র।’
নারী দলকে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। এ নিয়েও কথা তুলেছিলেন সালাউদ্দিন, ‘মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মানিক (বাফুফে সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক) টাকা দিয়েছে। সালাম (বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী) পে অর্ডার রেডি করে রেখেছে। বিসিবির খবর জানি না। অনেকে টিভি পর্দায় বলছে। তাদের বলছি, ২৪ তারিখ দল যাবে সেখানে টাকা দেন।’
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট শেষে আজ সংবাদ সম্মেলন করেন পাপন। সাকিব আল হাসান ও লিটন কুমার দাসের আইপিএলে খেলা না খেলার বিষয়টি পরিষ্কার করতেই এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ফোন নিয়ে সালাউদ্দিন যে নাটকের কথা বলেছেন, সে প্রসঙ্গে পাপনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। পাপনের কাছে এ প্রসঙ্গটাই ভিত্তিহীন।
জবাব দিতে গিয়ে খানিকটা ব্যাঙ্গও করলেন বিসিবি সভাপতি, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফোন করলে আমি যেখানে থাকি, যে অবস্থায় থাকি, ফোন ধরবোই। এটা নিয়ে জানি না কেন কথা উঠেছে। আমি এটা নিয়ে কমেন্ট করতে চাচ্ছি না। আমার মনে হয় সমস্যাটা আপনাদেরকে (মিডিয়া) নিয়েই (হাসি)। আপনারা টাকার হিসেব চাচ্ছেন। টাকা কি করল, কিভাবে খরচ করেছে। এসব প্রশ্ন করলে, হিসাব নিয়ে কথা বললে কী মাথা ঠিক থাকবে (হাসি)? আমার মনে হয় এসব নিয়ে প্রশ্ন না করাই ভালো।’
ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে সালাউদ্দিনের বলা কথার জবাবটা পাপন দিয়েছেন এভাবে, ‘যেমন ধরেন ব্যাকগ্রাউন্ড। ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড মানেই কি সব নির্লজ্জ, বেহায়া বা অহংকারী, এটা বলা যাবে? ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক কি বোঝাতে চেয়েছে আমি জানি না। এটা নিছকই ব্যক্তিগত ব্যাপার। কে কি বলল আমি এগুলো কখনো ধরি না। যে যত কথাই হোক। এ ধরনের লোকের কথায় আমার কিছু যায় আসে না।’
এরপরই নারী ফুটবল দলকে মিয়ানমারে না পাঠানোর প্রসঙ্গ টেনে এনে পাপন কঠোর সমালোচনা করেছেন ফুটবলের কর্তাদের, ‘আমার কাছে খারাপ লাগছে মেয়েরা যেতে পারল না। তাও মাত্র ২০ লাখ টাকার জন্য! এর চেয়ে দুঃখ-কষ্ট আর কী হতে পারে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী না যেন কতটা কষ্ট পেয়েছেন? আমার মনে হয় আপনাদের যে চ্যানেলগুলো আছে, যে কোন চ্যানেলের মালিকের কাছে চাইলেই টাকা দিয়ে দিত। কারো না কারো কাছে বলতে তো হবে। বিশ্বাস করেন, আমি কারো সঙ্গে কথা বলিনি। আমাদের প্লেয়াররাই দিত। শুধু বলতো একবার। এত গোপনে জিনিসটা রেখে, যে প্রসেসে করেছে, এটা খুব দুঃখজনক।’
বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘ফুটবল বোর্ডে যে সমস্ত পরিচালকরা আছেন, অবিশ্বাস্য লাগছে, তারা ২০ লাখ দিতে পারে না? প্রতিদিনের খরচই তো এদের অনেকের ২০ লাখ টাকা। আমার মনে হয় এর পেছনে অন্য কিছু আছে। এটা দুঃখজনক। দেশের জন্য এর চেয়ে বড় বদনাম হতে পারে না। আমরা বলছি, আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, যেটা সারা পৃথিবী মেনে নিচ্ছে। সেখানে আমরা ২০ লাখ টাকার জন্য আমাদের দেশের মেয়েদের প্রি-অলিম্পিকে খেলতে পাঠাতে পারি না। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। তাই এই টপিক নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। এদের সাথে তো কথা বলার প্রশ্নই ওঠে না।’
কিউএনবি/অনিমা/০৭ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৮:১৬