স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাস এখন রিতিমত ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের দখলে । নির্ধারিত গ্যারেজ থাকলেও সেখানে কেউ যানবাহন রাখেননা। যাত্রীবাহী ভ্যান ও ইজিবাইক প্রধান ফটকের ভেতর অবাধ যাতায়াত করছে। অন্যদিকে জরুরী বিভাগ, বহির্বিভাগের সামনে সব সময় যত্রতত্রভাবে যানবাহন ফেলে রাখা হয়। ফলে এ্যাম্বুলেন্সসহ রোগিদের ভেতরে ঢুকতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই।
গতকাল শনিবার বেলা ১২ টার দিকে সরজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের সামনে এবং ভেতরে যাত্রীবাহী ভ্যানের প্রচন্ড ভীড়। জরুরী বিভাগের সামনে এলোমেলোভাবে দাড়িয়ে আছে ১০-১২ টি ভ্যান। তার পাশেই রয়েছে কয়েকটি ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল। ভেতরে ভ্যান ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচলে অনেক রোগিদের চরম ভোগান্তির দৃশ্য চোখে পড়ে। এ সময় কথা হয় পাড়দীয়া এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক হাদিউজ্জামানের সাথে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের ভেতরে ভ্যানের ভীড়ের কারনে প্রবেশ করা দুরুহ হয়ে পড়েছে।
বাকোশপোল গ্রাম থেকে আসা গৃহবধু ফিরোজা খাতুন জানান, যত্রতত্রভাবে যানবাহন থাকায় প্রধান ফটক পার হয়ে ভেতরে যেতেই যদি ১০ মিনিট সময় লাগে। তাহলে ডাক্তারের কাছে যাব কখন। কথা হয় জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ওয়ার্ডবয় আক্তার হোসেনের সাথে । তিনি জানান, যত্রতত্র ভ্যান-ইজিবাইক এবং মোটরসাইকেল রাখায় আগত রোগি, চিকিৎসকসহ কর্মচারী কর্মকর্তরাও দিশেহারা হয়ে পড়েন। তবে আবদুল আজিজ নামে এক ভ্যান চালক বলেন, এখন তো আমাদের ভ্যান নিয়ে ভেতরে আসতে কেউ নিষেধ করেনি। তাই আমরা আসি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগের সামনে নির্ধারিত গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি মোটরসাইকেল। অথচ গ্যারেজের পাশে বহির্বিভাগের সামনে অভ্যন্তরিন সড়কে এলেমেলোভাবে ভ্যান ও মোটরসাইকেল রাখা রয়েছে। ফলে যাতায়াত করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এ্যাম্বুলেন্স চালক একলাস উদ্দিন অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, যত্রতত্রভাবে যানবাহন রাখায় রোগি নিয়ে যাতায়াত করতে সম সময় হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন, এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কর্মকর্তাদের একাধিকবার বলা হলেও কোন সমাধান হয়নি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকজন কর্মী বলেন, ইতিপূর্বে প্রধান ফটকে সব সময় একজন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকায় অহেতুক কোন যানবাহন ভেতরে প্রবেশ করতে পারতনা। কিন্তু বর্তমান না থাকায় ভেতরে অবাধে চলাচল করছে। বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা.তন্ময় বিশ্বাস বলেন, সার্বক্ষনিক একজন আনসার সদস্য মোতায়েন করতে প্রতিদিন খরচ হয় পাঁচ’শ টাকা। কিন্তু সে টাকার যোগান দিতে না পারায় আপাতত মোতায়েন করা সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন,গ্যারেজে একজন সার্বক্ষনিক লোক রাখার চেষ্টা চলছে। তখন হয়ত সমস্যার সমাধান হবে।
কিউএনবি/আয়শা/০১ এপ্রিল ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৫০