আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরতিহীন আলোচনার পর আজ শনিবার রাতে দুই দেশোর বিশেষজ্ঞরা লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করেছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন পাকিস্তানের রাজধানীতে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে ইরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, এই আলোচনায় অর্থনীতি, সামরিক, আইনি এবং পরমাণু বিষয়ক কমিটির বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে সেরেনা হোটেলে কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার লক্ষে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ উত্তেজনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই বিরতির সুযোগেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যার সাথে আছেন জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বার্তায় জানিয়েছেন, তার দেশের প্রতিনিধি দল জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন, তার সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।
মূল আলোচনার আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক বৈঠক করেন। শাহবাজ ইরানের প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতের সময় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির স্বার্থে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারিভাবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে ইরানি প্রতিনিধিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে দেখা গেছে।
সূত্র: ডন
কিউএনবি/অনিমা/১১ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ১১:৪২