আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এনআইইএসআর বলছে, সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চড়া থাকার কারণে সাধারণ পরিবারগুলোর বাজেটে টান পড়লেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সামান্য হলেও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু মন্দায় না পড়লেও মন্দার আঁচ লাগবে কম করে হলেও ৭ মিলিয়ন পরিবারের জীবনে। এই সতর্কবার্তাই দিয়েছে সংস্থাটি।
সাধারণত পরপর দুই প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হলে তাকেই মন্দা বলা হয়। স্বাভাবিক সময়ে সাধারণত অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়। গড়পড়তা হিসাবে দেখা যায়, উৎপাদিত ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং তাতে মানুষ কিছুটা ধনী হয়। অর্থাৎ জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়। কিন্তু কখনো কখনো মানুষের উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মূল্য হ্রাস পায়। পুরো এক প্রান্তিকে, অর্থাৎ টানা তিন মাস যদি জিডিপি সংকুচিত হয়, তাহলে বুঝতে হবে অশনিসংকেত।
এনআইইএসআর পূর্বাভাসে বলেছে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি এ বছর মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আর ২০২৪ সালে বাড়বে ১ শতাংশ। সে হিসাবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডসহ অন্যদের তুলনায় সংস্থাটি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে আশার বাণীই শুনিয়েছে। তবে এনআইইএসআর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি থাকার অর্থ হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ মন্দাবস্থার মতো পরিস্থিতি অনুভব করবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব, স্কটল্যান্ডের কিছু অংশে, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মানুষ এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন বেশি হবেন।
মূলত জ্বালানি ও খাবারের দাম চড়া থাকার কারণে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে গেছে। ফলে দেশটির সাধারণ মানুষ আয়-ব্যয়ের সমীকরণ মেলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। এনআইইএসআর বলছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি চার পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার অর্থাৎ প্রায় সাত মিলিয়ন পরিবার ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাদ্য ও জ্বালানি বিল বাবদ খরচ মেটাতে পারবে না। যেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতি ৫ পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার এ খরচ মেটাতে অক্ষম। আগামী শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৫:০৩