রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা শৈশবের স্বপ্ন পূরণ, সিন্ধু পুলিশের বিশেষ দায়িত্বে আফ্রিদি জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ সৌদিকে ৫ বিলিয়ন ডলারের আধুনিক অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দুর্গাপুরে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আবির্ভাব দিবস পালিত পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন, শঙ্কায় বাবরের অধিনায়কত্ব ফুলবাড়ীর দৌলতপুরে বাড়ীতে ঢুকে লুটপাট ও মারপিট, থানায় অভিযোগ॥ অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ফুলবাড়ীর কাজিহাল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১১ সদস্যের অনাস্থা পাহাড়ে সিন্ডিকেট চক্র কর্তৃক উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল; রাঙামাটিতে সাড়ে ৩ হাজার ঘনফুট কাঠ জব্দ নিরাপত্তা জোরদার করণে নওগাঁ শহরে এআই ক্যামেরা

দশ কোম্পানির ব্যাংক ঋণ ৬৪ হাজার কোটি টাকা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১২২ Time View

ডেস্ক নিউজ : মাত্রাতিরিক্ত ঋণের প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজারেও। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত শীর্ষ ১০ কোম্পানির সর্বশেষ ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। কিন্তু এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৪ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এর অর্থ হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও মূলধন অনুপাত (ডেট ইক্যুইটি রেশিও) ৯৪:০৬। অ্যাকাউন্টিং মানদণ্ডে একে বলা হয় ফাইন্যান্সিয়াল লিভারেজ (ঋণজনিত ঝুঁকি) অত্যন্ত বেশি।

একক কোম্পানি হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে সরকারি কোম্পানি পাওয়ার গ্রিডের। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ঋণের স্থিতি ২৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা, যা পরিশোধিত মূলধনের ৩৫ গুণ। আর সামগ্রিকভাবে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির ঋণ ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ৮ শতাংশ। ডিএসই সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে মঙ্গলবার শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন। সেখানেও শেয়ারবাজারের দুটি কোম্পানির নাম রয়েছে। অর্থাৎ ঝুঁকিতে রয়েছেন এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা। 

আবার কোনো কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে টাকা নিয়ে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করছে। এ কারণে ওই কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কারণে এসব কোম্পানি দেউলিয়া হলে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের পর বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারবে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব কোম্পানি একদিকে মুদ্রাবাজারে সংকট তৈরি করছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কিন্তু গত ৫ বছরের হিসাবে কোম্পানিগুলোর ওই অনুসারে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়েনি। 

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপেদষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কোম্পানি ঋণ বেশি থাকলে দায় বেড়ে যায়। কারণ কোম্পানি যে মুনাফা করবে, সেখান থেকে সবার আগে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়। এরপর সরকারকে কর দিতে হয়। সবকিছু বাদ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়। আর কোনো কারণে কোম্পানি দেউলিয়া হলেও সবার আগে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে হয়। ওই বিবেচনায় ইক্যুইটির চেয়ে ঋণ বেশি হলে ওই কোম্পানির ঝুঁকি বেশি। 


ডিএসই সূত্র জানায়, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে তারা তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যাংকের তথ্য হালনাগাদ করছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এ তথ্যে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত চার শতাধিক কোম্পানির ঋণ ২ লাখ ৭ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৬৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। তবে মোট ঋণের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বন্ড ও অন্যান্য কিছু দায় রয়েছে। এই বন্ড ও অন্যান্য দায়ের পরিমাণ ৯১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। এটি বাদ দিলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রকৃত ঋণ ১ লাখ ১৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। 

ডিএসইর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকারি কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড। ৭১২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ প্রতিষ্ঠানটি দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে নিয়েছে ২৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। যা পরিশোধিত মূলধনের প্রায় ৩৫ গুণ। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ২৪ হাজার ২৭৮ কোটি।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ২৯০ কোটি। তবে ঋণের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ নেওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং জাপানি প্রতিষ্ঠান জাইকার কাছ থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএসআরএম লিমিটেডের ঋণ ৬ হাজার ৮১২ কোটি টাকা। কিন্তু পরিশোধিত মূলধন ২৯৮ কোটি টাকা। আবার এই গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম স্টিলের ঋণ ৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা।

অর্থাৎ এই গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণের পরিমাণ ১২ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। এছাড়াও শীর্ষ তালিকায় রয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত, এসিআই লিমিটেড এবং কেয়া কসমেটিকসের মতো প্রতিষ্ঠান। 

শীর্ষ দশ কোম্পানির ঋণ ৬৪ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। আবার ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে এ ধরনের কোম্পানির সংখ্যা ২৪টি। এই ২৪ কোম্পানির ঋণের পরিমাণ ৮৫ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মোট ঋণের ৭৫ শতাংশই শীর্ষ ২৪ কোম্পানিতে। সরকারি আরেক কোম্পানি ডেসকোর ঋণ ২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। যদিও এই পাওয়ার গ্রিড এবং ডেসকো সরকারি কোম্পানি।

এরপরও এতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বোনাস বা রাইট শেয়ার না দিয়ে অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে তাদের দায় বাড়িয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান দুটির আরও শেয়ার ছাড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীরও নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। 

অন্যদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির নাম উঠে এসেছে। এরমধ্যে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ঋণের স্থিতি ১ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা।

আবার এই টাকার মধ্যে ১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকাই খেলাপি। এছাড়াও শীর্ষ খেলাপির তালিকায় রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাতের নাম। প্রতিষ্ঠানের ৮৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকার মধ্যে ৬২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকাই খেলাপি।

ফিনিক্স গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ওই সময়ে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে জালিয়াতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যুগান্তর। এরপরও অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের স্থিতি ১৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। নিয়মিত ঋণ ১৩ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা। আবার খেলাপি ঋণ প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি। তবে নিয়মিত ঋণের মধ্যেও বিপুল অঙ্কের খেলাপি রয়েছে।

একাধিকবার পুনঃতফসিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এসব ঋণখেলাপি দেখানো হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব অনুসারে বর্তমানে খেলাপি ঋণ ৩ লাখ টাকা পৌঁছেছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৬ জানুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৪:২৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit