ডেস্ক নিউজ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ পদত্যাগ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে বাইরে এসে হারুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, স্পিকার আন্তরিকতার সঙ্গে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। স্পিকার বলেছেন, আপনারা সংসদ থেকে পদত্যাগ না করলেও পারতেন, আপনাদের বক্তব্য সংসদে তুলে ধরতে পারতেন।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা মাত্র ছয়জন নির্বাচিত হয়েছিলাম। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে সংসদে যোগ দিয়েছিলাম। আজকেও তার সঠিক সিদ্ধান্তে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করলাম। হারুনুর রশীদ বলেন, আমরা গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমি দেশের বাইরে থাকার কারণে আমার সই করা পদত্যাগপত্র সেদিনই পাঠিয়েছিলাম। যেহেতু কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে প্রত্যেক সদস্যকে স্পিকারের সামনে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়, সে জন্য আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ হয়নি। আমি গতকাল রাতে দেশে ফিরেছি। আজ কিছুক্ষণ আগে স্পিকারের সামনে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, দেশ এখন আইন ও সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না। এখন এই জাতীয় সংসদ মহাজোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। এখানে বিরোধী দলের কোনো সদস্য নেই। এটি একদলীয় সংসদ। আমাদের সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধিতে এই ধরনের সংসদ পরিচালনার সুযোগ নেই। সরকার যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, সেভাবে যদি পরিচালনা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই সংবিধান ও আইনের পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কিছুদিন আগে যে নারকীয় তাণ্ডব ঘটানো হয়েছে, তা একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আজ দলের মহাসচিব, চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ নেতাদের নামে মিথ্যা জঙ্গি ও নাশকতার মামলা দিয়ে আটক রাখা হয়েছে। যেটি আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে আইনের শাসনের লেশ মাত্র কিছু নেই। আজ যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই এবং সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক দলগুলোর যে সভা-সমাবেশ, মুক্ত মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা রয়েছে, সাংবিধানিক যে অধিকার রয়েছে, তা যদি সরকার নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে অবশ্যই অবিলম্বে এই সংবিধান বিলুপ্ত করতে হবে, বাতিল করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে, উপহাসে পরিণত হয়েছে। এখন জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না। এই কারণে বিএনপি এবং জোট দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, সরকার কূটকৌশলের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। আমরা সরকার ও মহাজোটের শরিকদের আহ্বান জানাব, অবিলম্বে তারাও যেন সংসদ থেকে পদত্যাগ করে, না হলে দেশের ইতিহাসে তারা কর্তৃত্ববাদী সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপি অফিস থেকে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, হারুনুর রশীদ অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি খালেদা জিয়ারও মুক্তি চান।
কিউএনবি/আয়শা/২২ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:০০