শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

আলোচনা ‘ব্যর্থ’: ফের সংঘাতে জড়াতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধ হয়ে শান্তি ফিরবে– এমন সম্ভাবনা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। পাকিস্তান থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দেশে ফিরে যাওয়াকে বিশ্লেষকরা যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক পদক্ষেপের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে গেলে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির ওপর আলোচনা ব্যর্থতার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।  অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ফের বিঘ্নিত হতে পারে। ইরান যদি তার জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে, তবে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড ছাড়াবে।
অন্যদিকে হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই হুমকি দিয়ে রাখায় পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও ধস নামাতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি ইরানকে আরও রক্ষণশীল করে তুলতে পারে। তবে কেউ কেউ বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অমিমাংসিত ইস্যু একদিনে সমাধান হওয়ার বিষয় না। এখনও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও মনে করেন কেউ কেউ।
এদিকে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালীর বিষয়টি উল্লেখ করেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে মুখ খুলেছেন ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সাধারণত যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালী ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনায় ছিল একটি বড় জটিলতার কারণ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর থাকা শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই-এর বরাত দিয়ে মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের জন্য হরমুজ প্রণালী একটি ‘রেড লাইন’।
হাজি বাবাই বলেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এর টোল ইরানি মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১১ এপ্রিল) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, প্রণালীটি ‘শিগগিরই খুলে দেয়া হবে’।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও শনিবার জানিয়েছে, দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে’ এবং এটি ছিল সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণের বৃহত্তর একটি মিশনের অংশ। তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ওই দুটি জাহাজ হরমুজ দিয়ে অতিক্রম করেনি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ৯:২৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit