আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ গতকাল বুধবার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে বিশ্ব ইতিহাসে প্রকাশ্যে আসা প্রথম কোনো সরকারি ওয়েবসাইটে এআই-চালিত সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আলবানিজ এই ঘটনাকে স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের কাছে সরাসরি নিজের উদ্বেগ ও অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে ওপেনএআই অতিরিক্ত সময় নেওয়া এবং ই-মেইলের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে জানানোয় প্রবল হতাশা প্রকাশ করেন।
এদিকে আলবানিজের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রিচার্ড মার্লেস আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের নাগরিকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অতি সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্যগুলো দুর্গের মতো সুরক্ষিত ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে এবং সেগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন, যে তথ্যের নাগাল এআই এজেন্টটি পেয়েছিল, সেগুলো তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষিত ব্যবস্থায় ছিল। মার্লেস স্পষ্ট করেন যে এআই এজেন্টটি কোনো মানুষের নির্দেশ ছাড়াই নিজস্ব প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা টপকে সেখানে প্রবেশ করেছিল এবং এই অনুপ্রবেশ ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।
ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করে ওপেনএআই জানিয়েছে, গত জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণার সময় ঘটনাটি ঘটে। ওই সময়ে তাদের এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়া সরকারের বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়ে এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ারের এমন কিছু তথ্যের নাগাল পায় যা সাধারণ মানুষের দেখার জন্য উন্মুক্ত ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত আগস্টের আগে তারা এই কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে জানতে পারেনি। পরবর্তীতে ১০ সেপ্টেম্বর সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ ই-মেইল ঠিকানায় তারা বার্তা পাঠায়, যা পরে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের নজরে আসে। ওপেনএআই তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, উন্মুক্ত পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে মডেলটি অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু স্বয়ংক্রিয় পদক্ষেপ নেয় যা তাদের ভাবনায় ছিল না। তবে রোগীদের কোনো ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ বা তথ্য চুরির কোনো প্রমাণ মেলেনি বলেও তারা দাবি করেছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে সারা বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের ইনস্টিটিউট ফর সাইবার সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হ্যামন্ড পিয়ার্স জানান, নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এআই এজেন্টের সরকারি ও সংবেদনশীল তথ্যে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টার এটাই প্রথম উন্মুক্ত ঘটনা। এটি প্রমাণ করে যে ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির এমন বেপরোয়া আচরণ ও সাইবার হামলার ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ঘটনায় প্রযুক্তির দ্রুগতি ও নিয়ন্ত্রণহীনতা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪০