আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের নীতির কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। সম্প্রতি জেনেভায় আয়োজিত জাতিসংঘের বৈঠকে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী জানিয়েছেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করার লোভ কিংবা সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের রফতানি; কোনোটিই পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে পারবে না। এমনকি জাতিসংঘের এই মঞ্চে নাটকীয়তা তৈরি করেও যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
অনাহারে-অনটনে জর্জরিত হয়ে যে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে পুরোপুরি বিদেশি ঋণের ওপর টিকে রয়েছে, সেই দেশ কীভাবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত।
মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, পাকিস্তান যদি তাদের দেশের মানুষের কথা ভেবে নিজেদের অর্থনীতি এবং সামগ্রিক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়, তবে তা সাধারণ জনগণের জন্য অনেক বেশি লাভজনক হবে। সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নাটক করা বন্ধ না করলে তাদের অর্থনৈতিক কোনো পরিবর্তন আসবে না। এ সময় তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি জানান, গত জুন মাস থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে টানা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর সেই বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বহু নিরীহ নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদকারীদের কঠোর হস্তে দমন করতে ইসলামাবাদ সরকার ওই অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে সেখানে মারাত্মক মানবিক সংকট তৈরি করেছে।
এর পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ পুনর্ব্যক্ত করে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত জানিয়েছে, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে। পাকিস্তান অবৈধভাবে যে সমস্ত ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, তা অবিলম্বে তাদের খালি করে দেওয়ার আহ্বান জানায় দিল্লি। নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবেও সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছেন ভারতীয় কূটনীতিক। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান দিনের পর দিন সীমান্তে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ভারতে প্রবেশ করিয়েছে। এই সমস্ত রাষ্ট্রপোষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরা শুধু নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করেনি বরং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বহু কাশ্মীরির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। অথচ যে রাষ্ট্র নিজে সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়, তারা আজ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে তদন্তের দাবি জানাচ্ছে; বিষয়টি অত্যন্ত হাস্যকর ও পরিহাসের বলে মন্তব্য করেন ক্ষিতিজ ত্যাগী।
এদিকে সুর চড়িয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। নতুন দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পাঠানো একটি চিঠিকে সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দেন। সম্প্রতি সিন্ধু পানি চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে স্থায়ী সালিশি আদালতে একটি তথাকথিত রায়কে সামনে রেখে পাকিস্তান জাতিসংঘের কাছে অসত্য ও ভুল তথ্য পরিবেশন করেছে বলে অভিযোগ তোলে দিল্লি। জয়সওয়াল বলেন, সত্যকে বিকৃত করা এবং বিশ্বমঞ্চে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো পাকিস্তানের পুরোনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যে রায়ের কথা পাকিস্তান বলে বেড়াচ্ছে, তা কোনো বৈধ আন্তর্জাতিক আদালতের রায় নয় বরং সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গঠিত একটি কাঠামোর তৈরি করা সিদ্ধান্ত।
সূত্র: এনডিটিভি
কিউএনবি/অনিমা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:১৭