বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার সময় ইউএফসি ফাইট দেখছিলেন ট্রাম্প!

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ছিলেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানে আলোচনার সময় তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ‘নিয়মিত’ কথা বলেছেন। ভ্যান্স বলেন, ‘গত ২১ ঘণ্টায় আমরা তার (ট্রাম্প) সঙ্গে কতবার কথা বলেছি আমি জানি না; হয়তো ছয়বার, হয়তো ডজনখানেকবার।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে ছিলাম, কারণ আমরা আন্তরিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।’ এদিকে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল আগেই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। এবার ইরানের প্রতিনিধিদলও পাকিস্তান ছেড়েছে বলে জানা গেছে।
 
রোববার (১২ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ প্রতিনিধিদলটি তেহরানের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ত্যাগ করে।
 
শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ ছাড়ার খবর পাওয়া যায়।
 
এর আগে ইরানের সাথে কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়ায় রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে এয়ারফোর্স টু উড়োজাহাজে করে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
 
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সময় আজ রোববার সকাল ৭টা ৮ মিনিটে (জিএমটি ২টা ০৮ মিনিট) ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়েন। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে তিনি দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান। 
 
ইরানের সঙ্গে ম্যারাথন আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলেনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। তেহরান ওয়াশিংটনের প্রস্তব প্রত্যাখ্যান করেছে।’
 
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের পর ইরানি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে। তবে এখনও ২–৩টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে।
 
বাঘাই বলেন, ‘৪০ দিনের চাপিয়ে দেয়া সংঘাতের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা অবিশ্বাস ও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে হয়েছে। এক বৈঠকেই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব এমন আশা করা স্বাভাবিক ছিল না। কেউই তা আশা করেনি।’
 
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় সেই সংলাপ।
 
এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরাইলও।
 
সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ৯:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit