লাইফ স্টাইল ডেস্ক : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রমাগত কমছে জন্মহার। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে যেখানে একজন নারীর গড়ে ২ দশমিক ১টি সন্তান জন্ম দেওয়াকে প্রয়োজনীয় ধরা হয়, সেখানে বিশ্বের ৫৫ শতাংশেরও বেশি দেশে এ হার এর নিচে নেমে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, গ্রিস, পর্তুগাল, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশে এ প্রবণতা স্পষ্ট। গবেষকদের মতে, স্মার্টফোনের বিস্তার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে।
গবেষণায় দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের মধ্যে জন্মহার সবচেয়ে বেশি কমেছে। যেসব অঞ্চলে আইফোনের ব্যবহার আগে শুরু হয়েছিল, সেখানে জন্মহারও তুলনামূলক দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের কারণে মানুষ মুখোমুখি সামাজিক যোগাযোগের বদলে ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগে বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিয়ে এবং পরিবার শুরু করার প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, মানসিক চাপ এবং অনলাইন বিনোদনের প্রতি নির্ভরশীলতাও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।
আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসক সুজয় দাশগুপ্তের মতে, স্মার্টফোন সরাসরি প্রজননক্ষমতা কমিয়ে দেয়—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক ক্লান্তি এবং দাম্পত্য সম্পর্কে অনীহা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের বিকিরণ পুরুষের শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কিছু গবেষণা থাকলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
অন্যদিকে জন্মহার কমার পেছনে শুধু প্রযুক্তিই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দেওয়া, দেরিতে বিয়ে এবং ‘ডাবল ইনকাম, নো কিডস (ডিঙ্ক)’ জীবনধারার জনপ্রিয়তা অনেক তরুণ-তরুণীকে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে সহজলভ্য তথ্যও অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ কমাতে ভূমিকা রেখেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জন্মহার কমার পেছনে স্মার্টফোন একটি প্রভাবক হলেও এর সঙ্গে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ২:২৯