বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২০ যুদ্ধজাহাজ ও কয়েকশ’ সামরিক বিমান মোতায়েন আমেরিকার সিলেটের এমসি কলেজের যে ঘটনা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, বিচারে ১ জনের মৃতুদন্ড নোয়াখালীর উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রূপরেখা নির্ধারণে গোলটেবিল বৈঠক বোচাগঞ্জে বেতন বৃদ্ধির দাবীতে হারকমের শ্রমিকদের বিক্ষভ মিছিল এবার গুগলে ‘৭ আপ খাওয়া দল’ সার্চ করলেই আসছে ব্রাজিলের নাম ১২ বছর পর নতুন অধ্যায়? বিয়ের গুঞ্জনে মুখর জেনিফার উইনগেট যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সাত সেনাসহ ৩৭ জন নিহত ‘গণকবর ও নদীতে ভাসানো শহীদেরা শনাক্ত হলে সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াতে পারে’ সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৭ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা একবার বিশ্বকাপ জেতার পর আবার জেতা সবসময়ই বেশি কঠিন: ডি পল

সিলেটের এমসি কলেজের যে ঘটনা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, বিচারে ১ জনের মৃতুদন্ড

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ Time View

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট প্রতিনিধি : বহুল আলোচিত সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক স্বামীর কাছ থেকে নববধুকে কেড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃতুদন্ড ও তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছেন আদালত। রায়ে ৪ জনকে খালাস প্রদান করা হয়। বাকী ৪ আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। এর আগে গত বুধবার (৮ জুলাই) আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন আদালত। এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকালেই কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ৮ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ পপ্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েক জনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।

আদালত সূত্র জানায়, রায়ে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত একলাখ টাকা অর্থদন্ড এবং অপর একটি ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের পাশাপাশি আরও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত করেন আদালত। জরিমানার টাকা ভিকটিমকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ধর্ষণ ঘটনায় দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল:

২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সাথে প্রাইভেটকারে করে শাহপারন মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পাশ্ববর্তী দোকানে প্রবেশ করেন স্বামী। এই সময়ে ৫/৬ জন তরুণ এসে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রবাস নিয়ে যায়। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে সংঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকা পয়সা ও প্রইাভেটকার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা। ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ।

এই সুযোগে ছাত্রাবাস  থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে এবং দু’জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহ ভাজন দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আট জন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি।

অভিযুক্ত ৮ জনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। জানা গেছে, ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করেন। আর ২০২২ সালের ১১ মে মাসে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করে আদালত।

ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করে ছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করেন বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ এই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দু’টির বিচার কার্যক্রম এক সাথে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করেন বাদীপক্ষ।

বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্য গ্রহণের শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য ২০২২ সালের ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদি একটি রিট করেন। ওই বছরের ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এর আগে ২০২২ সালের ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে দ্রুত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর নয় মাস ধরে চলা দেশের অন্যতম আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। এবার রায় কার্যকরের অপেক্ষায় সিলেটের মানুষ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৫ জুলাই ২০২৬,/বিকাল ৪:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit