মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পলাশপুর জোন ৪০ বিজিবির উদ্যােগে  ত্রাণ সামগ্রী ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান। ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির মোহনপুর সীমান্তে চোরাচালান অভিযান চালিয়ে ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকার মাদক আটক॥ দুর্নীতি ‘জিরো টলারেন্সে’ আনতে কাজ করে যাচ্ছি: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী নওগাঁয় সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষিকার প্রাণহানি! খবর শুনে হার্ট অ্যাটাকে ছাত্রীর মৃত্যু ডেপুটি স্পীকারের নির্দেশে, দুর্গাপুরে পরিচ্ছন্ন অভিযান আটোয়ারীতে ভূমিসেবা মেলা শুরু পুলিশ কনস্টেবলের বাড়ি থকে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট পার্বতীপুরে তিনদিন ব্যাপী ভূমি মেলা ২০২৬ শুরু  নরসিংদীতে আয়নাবাজি ফের গ্রেপ্তার  ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

ডলার সংকটে এলসির দায় মেটাতে পারছে না ব্যাংকগুলো

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২
  • ১২৫ Time View

ডেস্কনিউজঃ করোনাভাইরাসের ধকল থেকে বিশ্ব অর্থনীতি বের হয়ে আসতে পারেনি। এতে সংকটে পড়েছে বিভিন্ন দেশের আমদানি বাণিজ্য। এমন পরিস্থিতিতে দেশে ব্যাপক হারে কমেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। চাপে পড়েছে দেশের বাণিজ্যিক পরিস্থিতি। আর এ অবস্থার কারণে দেশের বাজারে মার্কিন ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ডলারের দাম যেমনই হোক, সংকট দেখা দিচ্ছে চরম আকারে। এমন সময়েও আমদানির দায় পরিশোধে বাড়তি মূল্যে কিনতে হচ্ছে ডলার। এতে একদিকে আগের খোলা এলসির (ঋণপত্র) দায় পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলো, অন্যদিকে নতুন এলসি খুলতেও নানামুখী জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

জানা যায়, দেশের অন্তত ২০টি ব্যাংকের কাছে ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধের মতো কোনো ডলার নেই। আমদানির দায় মেটাতে গিয়েই ঘাটতিতে পড়ে যাচ্ছে এই ব্যাংকগুলো। প্রবাসীদের আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয় থেকে আসা ডলার দিয়েও নিজেদের আমদানির দায় এবং গ্রাহকদের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। এসব কারণে ওইসব ব্যাংকগুলো নতুন এলসি খোলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক ব্যাংক খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি খোলাও বন্ধ করেছে।

দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সপ্রবাহের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। আবার রপ্তানি আয়ের দিক থেকেও এই ব্যাংকটি সবার শীর্ষে রয়েছে। এই ব্যাংকটিও আমদানি দায় পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায়। সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, মাশরেক, এডিসিবি, অ্যাক্সিস ব্যাংকের বেশ কিছু এলসি পরিশোধ করতে পারেনি এই ব্যাংকটি। তাদেরও এলসি মেটানোর ক্ষেত্রে ৩০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখতে হয়েছে বিদেশি ব্যাংকগুলোকে। যদিও ব্যাংকটিতে প্রায় ৮৮ মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত থাকছে তাদের হিসেবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, নিট এক্সচেঞ্জ পজিশনে ৮৮ মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত দেখালেও ইসলামী ব্যাংকের হাতে প্রকৃত অর্থে ডলার নেই। এ কারণে এলসি দায় পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংকটি তাদের অনশোর ব্যাংকিং থেকে বেশ কিছু ডলার অফশোর ব্যাংকিংয়ে স্থানান্তর করে বিনিয়োগ করে এ বিপদে পড়েছে বলে জানায় এ কর্মকর্তা।

এলসি পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে স্বীকার করে ইসলামী ব্যাংকের এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা জানান, দেশের কোনো ব্যাংকই চাহিদা অনুযায়ী ডলার পাচ্ছে না। এ কারণে সব ব্যাংকেই কম-বেশি সংকট দেখা দিয়েছে। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই আমরা কিছু এলসির দায় পরিশোধে বিলম্ব করেছি। তবে কিছুটা বিলম্ব হলেও সব এলসির দায় পরিশোধ করে দেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক ইতোমধ্যে অনেক এলসি পরিশোধে বিলম্ব করেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ছাড়াও ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ কমার্জ ব্যাংকের এলসির দায় পরিশোধে বিলম্ব করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংকসহ দেশের এক ডজন ব্যাংকের বিরুদ্ধে এলসি দায় বিলম্বে পরিশোধের অভিযোগ করছে বিদেশি ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মে বলা আছে, ব্যাংকগুলো তাদের রেগুলেটরি ক্যাপিটালের ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করতে পারবে। এ হিসাবে ঢাকা ব্যাংকের ডলার সংরক্ষণের সীমা ৩০ মিলিয়ন। কিন্তু ব্যাংকটি প্রায় ৬৮ মিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে রয়েছে বর্তমানে। ডলার সংরক্ষণে সীমার সমপরিমাণ ঘাটতিতে থাকলে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তা সীমার অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানার বিধান রয়েছে।

ব্যাংক পরিচালকদের মতে, বিদ্যমান ডলার সংকট পরিস্থিতি ভয়াবহ। এর ভয়াবহতা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যাংক এলসির দায় পরিশোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের এলসি নেওয়াই বন্ধ করার উপক্রম হচ্ছে।

সম্প্রতি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ব্যাংকের নিট এক্সচেঞ্জ পজিশনে ডলার ঘাটতি কমাতে রেমিট্যান্স বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু আমরা নই, দেশের প্রায় সব ব্যাংকই ডলার সংকটে আছে বলে জানান তিনি।

এ অবস্থায় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে এবিবি ও বাফেদার দায়িত্বে থাকা ব্যাংক নির্বাহীরা ডলার সংকটের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার সহায়তা চান। যদিও বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান ব্যাংক এমডিদের দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলসি খোলার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি চৌকস টিম ব্যাংকের খোলা এলসিগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

কিউএনবি/বিপুল/০৪.১১.২০২২/ রাত ১০.২৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit