স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশের ক্রিকেটে পঞ্চপাণ্ডবের একজন মুশফিকুর রহিম। দলের অনেক জয়ে তার অসাধারণ পারফর্ম্যান্সের অবদান অনস্বীকার্য। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরে নানা মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন তিনি। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের পর তার ব্যাটিং নিয়ে ফের শুরু হলো বিতর্ক।
বাংলাদেশের ৩০৩ রান সংগ্রহের পথে মুশফিকের অবদান ৪৯ বলে অপরাজিত ৫২ রান। আপাতদৃষ্টিতে খারাপ নয়। তাহলে মুশফিকের এই ইনিংস ঘিরে বিতর্ক হচ্ছে কেন? সিকান্দার রাজা এবং ইনোসেন্ট কাইয়ার জোড়া সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ম্যাচ হারের পর আরো ১৫-২০ রানের জন্য আক্ষেপ করা হচ্ছে। ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজেই আক্ষেপ করেছেন। কিন্তু কেন হলো না আরো ১৫-২০ রান? স্লগ ওভারে রান বাড়ানোর দায়িত্বটা মূলত ছিল মুশফিক আর মাহমুদ উল্লাহর। ৪৫ ওভার পর্যন্ত মুশফিকের রান ছিল ৩৩ বলে ৩৫। শেষ পাঁচ ওভার যেখানে ঝোড়ো ব্যাটিং করা উচিত, সেখানে তিনি পরের ১৬ বলে করেন মাত্র ১৭ রান! হাতে ৭ উইকেট থাকতেও তিনি খেলেন ৫টি ডট বল! সেখানে ডট বল না খেলা মাহমুদ উল্লাহ করেন ১২ বলে ২০ রান।
বিতর্কের কারণ মূলত এটাই। শেষ ৩ ওভারে ক্রিজে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার থাকার পরও বাংলাদেশ তুলেছে মাত্র ২২ রান। তবে এককভাবে মুশফিককে দোষ দিতে রাজি হননি অধিনায়ক তামিম, ‘নির্দিষ্ট একজন-দুজনের দিকে আঙুল তোলাকে আমি অন্যায্য বলব। আমার মনে হয়, দল হিসেবে আমরা বাড়তি ওই ১৫-২০ রান করতে পারতাম। আমি সব সময় বলি, মাঠে যে ব্যাট করতে নামে, নিজের সেরাটাই চেষ্টা করে। যারা ব্যাটিং করেছে, তারা অনেকবারই কাজটি সফলভাবে করেছে। আমি এমন কেউ নই যে আমার ক্রিকেটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব। ‘
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুই ওয়ানডেতে ৯ আর ১১ রান করার পর উইন্ডিজ সিরিজে ছুটি নিয়েছিলেন মুশফিক। হজ করে ফেরার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ তার প্রত্যাবর্তন মঞ্চ। কিন্তু তরুণদের নিয়ে গঠিত টি-টোয়েন্টি দল থেকে তাকে ‘বিশ্রাম’ দেওয়া হয়। সুযোগ পান ওয়ানডে দলে। গতকালের আগে সর্বশেষ ৬ ইনিংসে একটা ফিফটি করা মুশফিক কি ব্যক্তিগত রানের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলেন? বাংলাদেশের বহু জয়ের নায়ককে নিয়ে সোশ্যাল সাইটে ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন প্রশ্নই তুলছেন।
কিউএনবি/আয়শা/০৬ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:০০