শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

জনরোষ থেকে বাঁচতে সরকার হিংস্র হয়ে উঠেছে : রিজভী

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২
  • ৩৫ Time View

ডেস্কনিউজঃ অঘোষিত দেউলিয়াত্বের মুখে পতিত সরকার ফুসে ওঠা জনরোষ থেকে বাঁচতে হিংস্র হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি, নজিরবিহীন লোডশেডিং, জ্বালানি সংকট, সীমাহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের প্রতিবাদে সারাদেশ যখন প্রতিবাদমুখর, তখন অবৈধ দখলদার সরকার জোরপূর্বক ক্ষমতায় থাকতে বেসামাল হয়ে জনগণের ন্যায়সঙ্গত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলিবর্ষণ করে পাখির মতো বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করছে।

তিনি বলেন, ভোলা জেলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আওয়ামী পুলিশ বেপরোয়াভাবে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আব্দুর রহিমকে। হত্যা করেছে ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলমকে। আরো ১৯ জন ঢাকায় ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এই হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত। সরকার তার পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদ মিছিলে গুলি চালিয়ে আবারো প্রমাণ করলো বল প্রয়োগ করে জবরদস্তি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়।

রিজভী বলেন, ‘ভোলায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গুলির নির্দেশদাতা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা। প্রমোশন এবং পুরস্কারের লিপ্সায় এসপি সাইফুল বিএনপির মিছিলে নারকীয় তাণ্ডবের নির্দেশ দেন বলে জানতে পেরেছি। মাঠে নির্দেশ কার্যকর করেছেন পুলিশের ভোলা সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত ইন্সপেক্টর আকরাম হোসেন এবং ওসি এনায়েত হোসেন। ইন্সপেক্টর আকরাম হোসেনকে সরাসরি গুলি করতে দেখা গেছে। তার বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের কালঘড়ায়। তার মৃত বাবা আব্দুল মতিন কিসলু ছিলেন আওয়ামী লীগার। আওয়ামী লীগের কিলার ইন্সপেক্টর আকরাম হোসেন এবং ওসি এনায়েত হোসেন জনগণের নিরাপত্তা দানের বদলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের আদেশ-নির্দেশ প্রতিপালনে ব্যস্ত থাকেন।’

এ সময় তিনি ‘আব্দুর রহিম ও নূরে আলমের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ উল্লেখ করে বলেন, জনগণের অভ্যুত্থানে এই সরকারের পতন ঘটবে। তারপর জনগণের সরকার কড়ায়-গন্ডায় বিচার করবে। সকল হত্যাকাণ্ডেরই বিচার হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, “সত্য কখনো চেপে রাখা যায় না। নিশিরাতের ভোটের ভুয়া এমপিরা এখন নিজেরাই জবানবন্দি দিচ্ছেন। গত ৩১ জুলাই সরকারের গৃহপালিত কথিত বিরোধীদল জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাতেই কিন্তু কাজটা হয়, আমরাই করিয়েছি’।”

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনারও স্বীকার করছেন দিনে ভোট হয় না। রাতের ভোটে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়। নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, এবারের ভোট রাতে হবে না, দিনে হবে। সিইসি বলেছেন, ২০১৪ এবং ২০১৮ এর নির্বাচন ছিল অতিমাত্রায় বিতর্কিত। অর্থাৎ আগের রাতে যে ভোট হয়েছিল তা তারাও স্বীকার করেছেন।

‘সরকার জোর করে দেশ চালাচ্ছে। এভাবে শরীকদের মুখ দিয়ে সত্য কথা বের হতে শুরু করেছে। ক’দিন পর নিজেরাই বলবে। নির্বাচন কমিশনের ডাকা সংলাপে অংশ নেয়া কেউই ইভিএম সমর্থন না করলেও আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনে ইভিএমে নির্বাচন করতে চায়। কারণ প্রথম থেকেই ইভিএমের উদ্দেশ্য হচ্ছে ডিজিটাল ডাকাতি। এটা ভোট ডাকাতির মেশিন। বাংলাদেশের জনগণ এটি বাস্তবায়িত হতে দেবে না,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ভোটাধিকার ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের মানুষ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছে একটা মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখে। সুতরাং এই আন্দোলনে যারা শরীক হবেন তারা সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে।

কিউএনবি/বিপুল/০৫.০৮.২০২২/ রাত ৯.৩৪

সম্পর্কিত সকল খবর পড়ুন..

আর্কাইভস

August 2022
MTWTFSS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
© All rights reserved © 2022
IT & Technical Supported By:BiswaJit
themesba-lates1749691102