বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

সিলেটে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২২ মে, ২০২২
  • ২৪৪ Time View

ডেস্কনিউজঃ সিলেটে পাহাড়ী ঢল হ্রাস পেয়েছে। তবে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। শনিবার দুপুরে রোদ উঠলেও ভোরে ও বিকালে বৃষ্টি হয়েছে। বন্যাজনিত কারণে বিশুদ্ধ পানির অভাব,রাস্তাঘাট ও বাঁধ ভেঙ্গে বানভাসি মানুষ যারপর নাই কষ্টে আছেন। সর্বোপরী পণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এলাকাবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। অনেক স্থানে ত্রাণের স্বল্পতা রয়েছে। শনিবার দুপুরে বন্যা কবলিত কোম্পনীগঞ্জে জেলা পরিষদের সামনে ত্রাণ বিতরণের সময় হাঙ্গামার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাঠি পিটা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানান, ত্রাণের তুলনায় সহায্যপ্রার্থী বেশী ছিল।

এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধের ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পৌর এলাকার করিমপুরসহ ৫টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে ফলে হুমকির মুখে এলাকাবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, ফাটল অংশ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা হচ্ছে। পৌরসভার কাউন্সিলর দেওয়ান আব্দুর রহিম মুহিন জানান, করিমপুর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধে ধসে ৮-১০ ফুট বাঁধের মাটি পানিতে চলে গেছে। যে কোন মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙ্গে যেতে পারে। আতংকে এলাকাবাসী। মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তার“জ্জামান বলেন, লক্ষীপুরে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বাঁধটি মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে সিলেটের সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমায় নগর সহ আশপাশের এলাকা থেকে পানি কিছুটা নেমেছে। তবে সিলেট নগরীর চিত্র আগের অবস্থায় ফিরতে আরো অন্তত: ৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সিলেটে ও সুনামগঞ্জের অন্তত: ১৫ লক্ষাধিক পানিবন্দী মানুষকে অন্তত: ১০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সিলেটে ৩৩ টি বাঁধ ভেঙ্গে এবং ১৫ কি.মিটার বাঁধ উপচে বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকেছে। বাঁধ ছাড়াও পাহাড়ী নদী-খাল ও ‘ছড়া’ দিয়ে পানি নেমে শহর-গ্রাম জনপদে বন্যা দেখা দেয়। বন্যা কবিলত এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট চলছে। নৌযান সংকটও রয়েছে। শনিবার সিলেটে বিভিন্ন নৌকা-হাটে নৌকা বিক্রয় হতে দেখা যায়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো মজিবর রহমান বলেন, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি এখনও নামেনি। সরকার বন্যার্তদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। সিলেটের ১৩টি উপজেলার ৮৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ৩২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

শনিবার বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে আরো কয়েকদিন পানিবন্দি থাকতে হবে বন্যার্তদের। যেসব স্থানে বাঁধ ভেঙেছে সেখানে নতুন করে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সিলেটে নদী,খাল ড্রেজিংয়ের লক্ষ্যে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে। সুরমার ড্রেজিং হলে সিলেটের বন্যার প্রকোপ কম হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড শনিবার বিকাল ৩ টায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর বিপত্সীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে বিপত্সীমার ২৩ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর আমলসীদ পয়েন্টে বিপত্সীমার ১ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার, শেওলায় ৫৫ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এখনো নগরীর অনেক এলাকা জলমগ্ন:

সুরমার পানি কমলেও নগরীর অনেক এলাকা এখনো জলমগ্ন। বিদ্যুৎ ও গ্যাস, খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। শনিবারও নগরের প্লাবিত এলাকার অনেক বাসিন্দাকে অন্যত্র চলে যেতে দেখা যায়। গত ১০ মে থেকে পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করেছে। ১৩ মে থেকে সিলেট নগরীর উপশহর সহ নদী তীরবর্তী আবাসিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

ভয়াবহ বন্যার কারণে মানবতের দিন পার করছেন সিলেটের জকিগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ। ভারতের বরাক নদী হয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে বানভাসি লোকজন চরম দুর্ভোগে। ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে সুরমা-কুশিয়ারার একাধিক স্থানে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। চারপাশে পানি থাকায় বাড়িঘর থেকে বের হতে পারছেন না বন্যা কবলিতরা। পানির শ্রোতে ভেসে গেছে অনেকের ঘরের মজুদ খাদ্য। কাজ নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চরম খাদ্য সংকট। ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা বানভাসীরা নৌকা দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটে যান। ক্ষতির তুলনায় সরকারি ত্রাণ বরাদ্ধ অপ্রতুল।

সিলেট জেলার ১৩ উপজেলার বন্যা কবিলতি বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। এ প্রেক্ষিতে সিলেট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বেশ কিছু কার্যকরী উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার কানাইঘাট উপজেলায় পানি পরিশোধন ক্ষমতা সম্পন্ন মোবাইল টিট্রমেন্ট প্লান্ট দ্বারা বন্যাকবলিত এলাকায় দূর্গত মানুষের মাঝে নিরাপদ পানি সরবরাহ করেছে। এসময় সিলেট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন সহ সং‌শ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অপর আরেকটি মোবাইল টিট্রমেন্ট প্লান্ট দ্বারা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২ নং ও ১৩ নং ওয়ার্ড এ দূর্গত মানুষের মাঝে নিরাপদ পানি সরবরাহ করেছে।

কিউএনবি/বিপুল/২২.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/ দুপুর ১২.৫৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit