শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২
  • ৪১ Time View

ডেস্কনিউজঃ বিশিষ্ট সাংবাদিক, গীতিকার, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার লাশ বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতাকে ঢাকায় বনানী কবরস্থানে তার স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে বলে জানা গেছে।

চার মেয়ে ও এক ছেলের জনক আবদুল গাফফার চৌধুরী মৃত্যুর আগে তার লাশ বাংলাদেশে দাফনের জন্য কাছের মানুষ ও ছেলে-মেয়েদের বলে গেছেন। শুধু তাই নয়, বনানী কবরস্থানে স্ত্রীর কবরের পাশে নিজের কবরের জন্য জায়গাও নির্ধারণ করে গেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুনা তাসনিম জানিয়েছেন, আগামীকাল যুক্তরাজ্যের ব্রিকলেন মসজিদে আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আলতাব আলী পার্কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ রাখা হবে। গাফ্ফার চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলাদেশে তার স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবদুল গাফফার চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বিশিষ্ট এ গীতিকার বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাজি ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা মোসাম্মৎ জহুরা খাতুন।

১৯৫০ সালে আবদুল গাফফার চৌধুরী তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫১ সালে ‘দৈনিক সংবাদ’ প্রকাশ হলে তিনি সেখানে অনুবাদকের কাজ নেন। এরপর তিনি অনেক পত্রিকায় কাজ করেছেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সপরিবারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলা হয়ে কলকাতা পৌঁছান আবদুল গাফফার চৌধুরী। সেখানে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক জয়বাংলায় লেখালেখি করেন। এ সময় তিনি কলকাতায় দৈনিক আনন্দবাজার ও যুগান্তর পত্রিকায় কলামিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দৈনিক জনপদ পত্রিকা বের করেন।

এরপর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলজিয়ার্সে ৭২ জাতি জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে যান আবদুল গাফফার চৌধুরী। দেশে ফেরার পর তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কলকাতা নিয়ে যান। সেখানে সুস্থ না হওয়ায় তাকে নিয়ে ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে লন্ডনে যান তিনি। এরপরই তার প্রবাসজীবনের ইতিহাস শুরু হয়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’, ‘বাঙালি না বাংলাদেশি’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ৩০। এ ছাড়া তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘একজন তাহমিনা’ ‘রক্তাক্ত আগস্ট’ ও ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। ১৯৬৩ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, শেরেবাংলা পদক, বঙ্গবন্ধু পদকসহ আরও অনেক পদকে ভূষিত হয়েছেন বিশিষ্ট এ সাংবাদিক।

কিউএনবি/বিপুল/ ১৯.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/ রাত ১১.১১

সম্পর্কিত সকল খবর পড়ুন..

আর্কাইভস

August 2022
MTWTFSS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
© All rights reserved © 2022
IT & Technical Supported By:BiswaJit
themesba-lates1749691102