মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি : ফুলবাড়ীতে এক মুক্তিযোদ্ধার জমির ধান জোর পূর্বক কাটার অভিযোগ করেছে ভুক্তভুগী মুক্তিযোদ্ধা শাহ ইলিয়াছুর রহমান।মুক্তিযোদ্ধা শাহ ইলিয়াছুর রহমান বলেন একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কাজিহাল দহশতিয়া মাদরাসার কতিপয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা, মাদরাসার নাম ব্যবহার করে তার জমির বোরো ধান গত ১০ মে এলাকার কতিপয় সন্ত্রাসী দিয়ে জোর পূর্বক কেটে নিয়ে যায়, তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তিনি এই ঘটনার বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
মুক্তিযোদ্ধা শাহ ইলিয়াছুর রহমান সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন ফুলবাড়ী উপজেলার ১৪৯নং কাজিহাল মৌজার ২৮৩৮ দাগের দুই একর ৭৭শতক জমির এসএ ৩৮৫ নং খতিয়ানে তার মা ছুফিয়া খাতুন মালিক ছিলেন। তার মা ছুফিয়া খাতুন ২০১৩ সালের দুই অক্টোবর ফুলবাড়ী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ৫০৬০ নং দলিল মুলে তাদের তিন ভাই শাহ ইলিয়াছুর রহমান, শাহ ওছমান হারুন ও শাহ হুমায়ুন কবিরকে হেবা করে দেন।এরপর তারা জমা খাজিসহ খাজনা পরিশোধ করে নিজ নামে রেকড করে নেন। কিন্তু তাদের বাড়ীর নিকট প্রতিষ্ঠিত কাজিহাল দহশতিয়া ফাজিল মাদরাসার কতিপয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় নেতা তাদের এই জমি ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে মাদরাসার নাম ব্যবহার করে জোর দখল করার চেষ্ঠা করছে। এই জোর দখল করার অংশ হিসেবে চলতি মাসের গত মে তাদের রোপনকৃত বোরো ধান জোর পূর্বক কেটে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে তিনি বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কাজিহাল দহশতিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোতালেব হোসেন বলেন ১৯৬৭ সালে ১মার্চ শাহ ইলিয়াছুর রহমানের পিতা এবারত আলী শাহ এই জমি মাদরাসার নামে দান করেছে,যার দলিল নং ২৫৭৬ এই জন্য তারা এই জমি মাদরাসার জন্য দাবী করছেন।এদিকে মুক্তিযোদ্ধা শাহ ইলিয়াছুর রহমান বলেন ১৯৬২ সালে তার মা ছুফিয়া খাতুন এস এ রেকড মুলে ওই জমির মালিক ছিলেন, সেখানে ১৯৬৭ সালে কি ভাবে তার পিতা ওই জমি হস্তান্তর করেন বলে তিনি প্রশ্ন করেন। মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছুর রহমান বলেন মাদরাসার নামে যে দলিল প্রদর্শন করা হয়েছে তার কোন ভলিয়ম নাই বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে ফুলবাড়ী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে খোজ নিয়ে জানা গেছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ফুলবাড়ী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দুস্কৃতিকারীরা অগ্নিসংযোগ করায়, ওই সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রক্ষিত ১৯৬৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ১৯৭১ সাল প্রর্যন্ত ভলিয়ম বহি পুড়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যাক্তি ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ের একাধিক জাল দলিল সৃষ্টি করে সরকারী স্বার্থ জড়িত জমিসহ একাধিক ব্যাক্তির জমি দখল করার অপচেষ্ঠা করছে। মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছুর রহমানের জমির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তাকে সহযোগিতা না করে হয়রানি করছে। এতে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছুর রহমান।
কিউএনবি/অনিমা/১৬.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ২:০৯