বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ১৯৭১ সাসে শুরু হয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুক্তি যুদ্ধ। যুদ্ধ চলাকালিন সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী সাথে মিলে আমাদের মা বোনের ইজ্জত নিয়ে যারা খেলা করেছিলো তাদের সবাইকে সরকার আইনের আওতায় এনে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের ফাঁসিও হয়েছে। আবার কেউ কেউ পালিয়ে রয়েছে বিদেশে। তাদেরকেও আনার চেষ্টা করছে সরকার। এরপরও দেশে কিছু রাজাকার বেঁচে আছে আবার কেউ মৃত্যু বরণ করেন। রাজাকারদের ছেলে সন্তান যখন দেশটাকে লুটে খাচ্ছে ও করে বেড়াচ্ছে নানা অপরাধ। পুলিশ প্রশাসন দেখেও না দেখার বান ধরছে। ২০১৫ সালে সরকার যখন একটি রাজাকারদের তালিকা করে এর মধ্যে একটি নাম পাওয়া যায় সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর মাসুম পাড়ার রাজাকার মোঃ সুরুজ মিয়া। সে মৃত্যু বরন ও করেন। কিন্তু তার ছেলের ভোটার আইডি কার্ডে এখনো জীবিত রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার ছেলে কালন দীর্ঘ সময় ক্ষমতা পেয়ে করেছে এলাকায় এক বড় ধরণের রাজত্ব। তার রয়েছে অনেক বড় একটি সিন্টিকেট তাদের দিয়ে করে বেড়াচ্ছে যত ধরণের অপরাধ মূলক কাজ।
এমনই একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ৬নং ওয়ার্ডের ১০ নং ইউনিয়ন আওমীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ প্রায় একযোগ ধরে মোহাম্মদ আলী হোসেন কালন আবার কেউ তাকে মোঃ নরুল ইসলাম কালন নামেও চিনে। ৫বছর আগে সুরুজ মিয়া মারা গেলেও কালনের ভোটার আইডি কার্ড নাম্বারেঃ ১২০৮০৬৩৬৬৩৯০ তার বাবা এখনো জীবিত আছে। ক্ষমতা পেয়ে গড়ে তুলেছে সম্পত্তির পাহাড় ও ব্যবসা বাণিজ্য। সাথেতো আছেই মাদক ব্যবসার কারবারি। স্থানীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। তিনি আরো বলে রাজাকার সুরোজ টিক্কার ব্যবসা করতেন আর এখন তার ছেলে কোটি কোটি টাকার মালিক।
একের পর এক অপরাধ করেই যাচ্ছে কালন, তাকে পুলিশ প্রশাসন কিছুই বলে না। সে এলাকার সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করে। কিছু বলতে গেলেই খেতে হয় বিভিন্ন ধরনের মামলা। অপর আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, তার মাদক ব্যবসার কারণে আমাদের সমাজের যুবক আজ ধংসের পথে আমরা এখন তার কাছে জিম্মি হয়ে পরেছি। তার ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারছি না। কারণ কিছু বলতে গেলেই পুলিশ, র্যাব দিয়ে আমাদের হয়রানি করে। কালনের রয়েছে দুই ইটের ভাটা কি ভাবে এত টাকার মালিক হয় কালন তা এখন জন মনে প্রশ্ন। আবার তার বাড়ী রয়েছে একটি বিশাল বহুল। এসব অভিযোগের বিষয়ে আওমীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হোসেন কালনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকারের সাথে যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কিউএনবি/আয়শা/১০ই মে, ২০২২/২৬ বৈশাখ, ১৪২৯/বিকাল ৫:২১