বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৩টার দিকে রামুর মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্ট সংলগ্ন আরাকান সড়কে সন্দেহ হওয়ায় একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় চালক মুন্না শিকদারকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মোটরসাইকেলের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন বাক্সের তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে প্যাকেটজাত অবস্থায় ৫৪ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায় বলে জানায় বিজিবি।
এ ঘটনায় ৩০ বিজিবির নায়েক সুবেদার মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করেন। তবে মামলার নথিতে আটক ব্যক্তি এপিবিএনের সদস্য—এ তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার বাদী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তি এপিবিএনে কর্মরত কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না। আটকের সময় তার কাছ থেকে পাওয়া পরিচয় ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল হকও জানান, বিজিবির করা এজাহারের ভিত্তিতেই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তি এপিবিএনের সদস্য কি না, সে বিষয়ে তিনিও নিশ্চিত ছিলেন না বলে জানান।
তবে ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউসার সিদ্দিকী নিশ্চিত করেছেন, মুন্না তাদের বাহিনীর সদস্য। তার তথ্য অনুযায়ী, মুন্না ২১ দিনের ছুটিতে ছিলেন। ছুটির সময়ই তাকে ১৬ এপিবিএন থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়। কিন্তু নতুন কর্মস্থলে তিনি এখনো যোগদান করেননি। অতিরিক্ত ডিআইজি কাউসার সিদ্দিকী বলেন, ছুটিতে থাকা অবস্থায়ই মুন্না মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন।
এদিকে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে একসঙ্গে ৫৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের পরও মামলার এজাহারে তার বাহিনীগত পরিচয় না থাকা এবং চার দিন পর ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।
বিজিবি সাধারণত মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্য জানিয়ে থাকে। এমনকি ১০ থেকে ১৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাও তাদের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এ ঘটনায় প্রায় ৫৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের পরও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান।