বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের দাবি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ Time View
ডেস্ক নিউজ : জীবনে প্রত্যেক মানুষেরই স্বপ্ন থাকে, লক্ষ্য থাকে, ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা থাকে; কিন্তু বাস্তবতা সব সময় সেই পরিকল্পনা মেনে চলে না, মানুষের কোনো কোনো আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যায়, কোনো কোনো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়, সবকিছু ঠিক থাকার পরও পরিকল্পনার বিপরীত ঘটনা ঘটে। কখনো কখনো আবার ব্যর্থতার অন্ধকারও নেমে এসে মানুষকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে তোলে।এই মুহূর্তগুলোতেই মানুষের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। কেউ অস্থির হয়ে অভিযোগ করে, আবার কেউ নিশ্চিন্ত মনে মেনে নেয় যে আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা-ই তার জন্য কল্যাণকর। কারণ মানুষের পরিকল্পনা বাহ্যিক ভালো মনে হলেও অনেক সময় তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অকল্যাণ ডেকে আনতে পারে; কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্ত তাকে সাময়িক কষ্টে ফেললেও সেই অকল্যাণ থেকে হেফাজত করে। যারা তা অনুধাবন করার মতো ঈমান অর্জন করতে পারে, সাময়িক ব্যর্থতা তাদের বিচলিত করার চেষ্টা করলেও কাবু করতে পারে না; বরং মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ঈমান ও আস্থা থাকার কারণে সাময়িক অপ্রাপ্তি ও কষ্টেও তারা এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পায়।

সান্ত্বনা পায়। কারণ তারা জানে, মহান আল্লাহ যা করেন, কল্যাণকর করেন। যেকোনো ছোট বিপদ ও ব্যর্থতার বিনিময়ে মহান আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে বড় পুরস্কার দেবেন; ইনশাআল্লাহ। একেই বলে আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা, যা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

মানুষের তাকদিরে যা লেখা আছে, তা ঘটবেই। তবে মানুষ যদি সেই অবস্থায় আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে তাঁর সিদ্ধান্তে খুশি থাকতে পারে, তাহলে সেই ঘটনা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, আর যদি হতাশ হয়ে আল্লাহকেই অভিযোগ করে, তাহলে তা তার জন্য নিছক বিপদই থাকবে (নাউজুবিল্লাহ)।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘পৃথিবীতে অথবা তোমাদের নিজেদের ওপর এমন কোনো মুসিবত আসে না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। এটা (করা) আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২২)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকে তোমাদের জন্য ফরজ করা হয়েছে এবং এটি তোমাদের নিকট অপ্রীতিকর; বস্তুত তোমরা এমন বিষয়কে অপছন্দ করছ, যা তোমাদের পক্ষে বাস্তবিকই মঙ্গলজনক, পক্ষান্তরে তোমরা এমন বিষয়কে পছন্দ করছ, যা তোমাদের জন্য বাস্তবিকই অনিষ্টকর এবং আল্লাহই (তোমাদের ভালো-মন্দ) অবগত আছেন এবং তোমরা অবগত নও।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২১৬)

এই আয়াত দ্বারা আরো স্পষ্ট হয়ে যায়, আমাদের জন্য কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, তা আল্লাহই ভালো জানেন, তাই সর্বদা আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকাই বুদ্ধিমান ঈমানদারের কাজ।

তার মানে এই নয় যে আল্লাহর সিদ্ধান্তে খুশি আছি বলে, অক্ষম বা অলস হয়ে বসে থাকবে। কারণ ইসলাম পরিশ্রম ও সুপরিকল্পনার নির্দেশ দেয়; ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিতে বলে। আমাদের দ্বিন ও দুনিয়াকে উন্নত করতে হালাল পদ্ধতিতে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কল্যাণকর ফলাফল আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো একসময় আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পেছনে ছিলাম। তিনি বললেন, হে তরুণ! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি—তুমি আল্লাহ তাআলার (বিধি-নিষেধের) রক্ষা করবে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখবে, আল্লাহ তাআলাকে তুমি কাছে পাবে। তোমার কোনো কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হলে আল্লাহ তাআলার কাছে চাও, আর সাহায্য প্রার্থনা করতে হলে আল্লাহ তাআলার নিকটেই করো। আর জেনে রাখো, যদি সব উম্মতও তোমার কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে ততটুকু উপকারই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। অন্যদিকে যদি সব উম্মত তোমার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হয়, তাহলে ততটুকু ক্ষতিই করতে সক্ষম হবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং লিখিত কাগজসমূহও শুকিয়ে গেছে।

(তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

অতএব, মুমিনের উচিত নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে বা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় মগ্ন হয়ে জীবনের শক্তি নষ্ট না করা; বরং হালালভাবে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা। এই ইবাদত অনেক কঠিন হলেও তা মুমিনকে প্রশান্তি দেয়।

কিউএনবি/অনিমা/০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:৪৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit