
নিহত হযরত আলীর স্ত্রী রুমানা আক্তার জানান, তার স্বামী কাশিমপুর এলাকায় মিজানের ঝুটের গুদামে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। ২০ই মার্চ রাতে ঝুটের গুদামের মালিক মিজানুর রহমান তার স্বামী হযরত আলীকে কাশিমপুর থেকে ধরে নিয়ে আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট এলাকায় একটি ছয় তলা ভবনে আটকে রেখে মারধর করে। এখবর শুনে সে প্রথমে কাশিম থানায় গিয়ে ওসিকে জানান। কাশিমপুর থানা তাকে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করতে বলেন। আশুলিয়া থানার বর্তমান নিয়ম কেউ প্রথমে কোন লিখিত অভিযোগ করতে পারে না। প্রথমে অভিযোগ কারিকে মৌখিক অভিযোগ জানাতে হয়।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে একজন এসআই ঘটনা স্থলে যান। তাই মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই জাহাঙ্গীর আলম বাংলাবাজারের তদন্তে যান। সেখানে বাদি বিবাদের কথা শুনে নিহতের স্ত্রী রুমানার কথায় কর্নপাত না করে উল্টো তাকে গালি গালাজ করে বলেন তুমি টাকা নেয়ার জন্য ফন্দি করেছ বাড়িতে গিয়ে তাকে খুজো। নিহতের পরিবার বলেন এসআই জাহাঙ্গীর একটু সচেতন হলে হযরত আলীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।এ বিষয়ে নাটোরের বড়াই গ্রাম থানার এস আই রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, সচিবালয়ের স্টিকার লাগানো বিলাসবহুল একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৪০৫৮৭) খুব গতিতে যাচ্ছিল। এসময় সন্দেহ হলে আমরা তল্লাশি চালাই। এরপর গাড়ির পেছন থেকে বস্তাবন্দি হযরত আলী নামের ওই ব্যক্তির লাশ দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক ওই জিপ ও চালক মিজান শেখকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানান, মিজান আশুলিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতো। সে গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। ধারণা করা যাচ্ছে মৃত ব্যক্তিকে কোন দ্বন্দ্বের জেরে হত্যা করে লাশ দূরে কোথাও ফেলে দিতে যাচ্ছিল। আটক মিজান মাগুরার শেরপুর এলাকার মৃত গোলাম হায়দার আলীর ছেলে।নিহতের লাশ গাজীপুরের একটি হাসপাতালে ময়ণা তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারী মিজানসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদেরকে চিন্হিত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
কিউএনবি/অনিমা/২৩শে মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১:২১