বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০ নতুন ধারা বাংলাদেশ’র শান্তাসহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ উত্তরাঞ্চলের তিন জেলার উন্নয়নে একটি মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে: নির্মলা সীতারামন ‘তাকে ছাড়া গজনি সফল হতো না’, প্রদীপ রাওয়াতকে আমির খানের শ্রদ্ধাঞ্জলি ‘গ্রেফতারের নাটক সাজিয়ে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা’, বিধানসভায় বিজয়কে একহাত নিলেন উদয়নিধি হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৮৩ আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা গ্রেপ্তার জুলাই আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইসলামের আলোকে মানবদেহের অধিকার

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৪৫ Time View

 

ডেস্ক নিউজ : মহান আল্লাহ মানুষকে সব মাখলুকের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন। তাদের সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন, তাদের নিজেদের শরীরের যত্ন নেওয়ার আদেশ করেছেন এবং শরীরের শক্তিকে অনর্থক ও গুনাহর কাজ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কঠিন কিয়ামতের দিন মানুষকে তার শরীর কী কী কাজে ব্যয় করেছে সে ব্যাপারে হিসাব দিতে হবে। আবু বারজা আল-আসলামি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো বান্দার পদদ্বয় (কিয়ামত দিবসে) এতটুকুও সরবে না, তাকে এই কয়টি বিষয় সম্পর্কে যে পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করা হবে—কিভাবে তার জীবনকালকে অতিবাহিত করেছে; তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কী আমল করেছে; কোথা থেকে তার ধন-সম্পদ উপার্জন করেছে ও কোন কোন খাতে ব্যয় করেছে এবং কী কী কাজে তার শরীর বিনাশ করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

অতএব বোঝা গেল মহান আল্লাহ প্রদত্ত এই শরীরেরও আমাদের ওপর কিছু অধিকার রয়েছে। নিম্নে শরীরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার তুলে ধরা হলো—

সুস্থ-সবল থাকার চেষ্টা করা : সুস্থ-সবল জীবনের জন্য শরীরের যত্ন নেওয়া শরীরের হক। শরীরের সঠিক যত্ন না নিলে মানুষ অলস হয়ে ওঠে, অথচ অলসতা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, শক্তিমান মুমিন ব্যক্তি দুর্বল মুমিন ব্যক্তির তুলনায় উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। অবশ্য উভয়ের মধ্যে কল্যাণ আছে। তোমাদের জন্য উপকারী প্রতিটি উত্তম কাজের প্রতি আগ্রহী হও এবং অলস বা গাফিল হয়ো না। কোনো কাজ তোমাকে পরাভূত করলে তুমি বলো, আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন এবং নিজ মর্জিমাফিক করে রেখেছেন। ‘যদি’ শব্দ সম্পর্কে সাবধান থাকো। কেননা ‘যদি’ শয়তানের কর্মের পথ উন্মুক্ত করে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৬৮)

পরিমিত খাবার : তবে সুস্থতা অর্জনে অধিক খাদ্য গ্রহণ নয়। অধিক খাদ্য গ্রহণও মানুষের জন্য ক্ষতিকর। বরং সুস্থ থাকার জন্য ও মহান আল্লাহর ইবাদত করার জন্য মানুষের উচিত পরিমিত খাবার গ্রহণ করা, যতটুকু খাবার তার সুস্থতার জন্য যথেষ্ট।

মিকদাম বিন মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষ পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র ভর্তি করে না (যতটুকু খাদ্য গ্রহণ করলে পেট ভরে, পাত্র থেকে ততটুকু খাদ্য ওঠানো কোনো ব্যক্তির জন্য দূষণীয় নয়)। যতটুকু আহার করলে মেরুদণ্ড সোজা রাখা সম্ভব, ততটুকু খাদ্যই কোনো ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট। এর পরও যদি কোনো ব্যক্তির নফস (প্রবৃত্তি) জয়যুক্ত হয়, তবে সে তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৪৯)

শরীরের যত্ন নেওয়া : শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর যত্ন নেওয়া শরীরের অধিকার। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার মাথায় চুল আছে সে যেন এর যত্ন নেয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪১৬৩)

প্রয়োজনমতো বিশ্রাম করা : মাঝেমধ্যে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া শরীরের অধিকার। শরীরের ওপর অমানবিক চাপ দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। আবুল আব্বাস (রা.) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী (সা.) আমাকে বলেন, আমাকে কি জানানো হয়নি যে তুমি রাতভর ইবাদতে জেগে থাকো আর দিনভর সিয়াম পালন করো? আমি বললাম, হ্যাঁ, তা আমি করে থাকি। তিনি ইরশাদ করলেন, এ কথা নিশ্চিত যে তুমি এমন করতে থাকলে তোমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তোমার দেহের অধিকার রয়েছে, তোমার পরিবার-পরিজনেরও অধিকার রয়েছে। কাজেই তুমি সিয়াম পালন করবে এবং বাদও দেবে। রাতে জেগে ইবাদত করবে এবং ঘুমাবেও। (বুখারি, হাদিস : ১১৫৩)

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি না করা : শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা হারাম। কেননা মানুষ তার অঙ্গের মালিক নয়, বরং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর আমানত। মহান আল্লাহ মানুষকে সম্মানিত করেছেন। কেউ চাইলে নিজের ইচ্ছায় এগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না, বিক্রিও করতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি, তাদের জন্য জলে-স্থলে যানবাহনের ব্যবস্থা করেছি, তাদের পবিত্র রিজিক দিয়েছি আর আমি তাদের আমার বেশির ভাগ সৃষ্টির ওপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭০)

হারাম না খাওয়া : শরীরের একটি অন্যতম হক হলো হারাম ভক্ষণ থেকে বিরত থাকা। হারাম ভক্ষণ মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে দেয়। হারাম ভক্ষণকারীর শরীর জাহান্নামে যাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রেরিত রাসুলদের যে হুকুম দিয়েছেন, মুমিনদেরও সে হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে রাসুলরা! তোমরা পবিত্র ও হালাল জিনিস আহার করো এবং ভালো কাজ করো। আমি তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জ্ঞাত।’ (সুরা : আল মুমিনুন, আয়াত : ২৩-৫১)

তিনি (আল্লাহ) আরো বলেছেন, ‘তোমরা যারা ঈমান এনেছ শোন! আমি তোমাদের যেসব পবিত্র জিনিস রিজিক হিসেবে দিয়েছি, তা খাও।’ (সুরা : আল বাকারা, আয়াত : ১৭২)।

অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে সে ধূলিধূসরিত রুক্ষ কেশধারী হয়ে পড়ে। অতঃপর সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। কাজেই এমন ব্যক্তির দোয়া তিনি কী করে কবুল করতে পারেন?’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৬ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/রাত ৯:০৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit