বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

স্ত্রীর পর্দায় বাধা দিলে স্বামীর করণীয় কী?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ Time View

ডেস্ক নিউজ : স্ত্রী পরিপূর্ণভাবে পর্দা পালন করতে চান। কিন্তু পরিবারের বাধা, গ্রামীণ পরিবেশ এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর করণীয় কী? বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে স্ত্রীর পর্দা পালনের ব্যবস্থা করা যায়, সে বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের।

সম্প্রতি এক ব্যক্তি এ বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ চেয়ে জানান, তিনি ঢাকায় চাকরি করেন। তার স্ত্রী গ্রামে থাকেন। সেখানে ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয় তাকে। স্ত্রী পরিপূর্ণভাবে পর্দা পালন করতে চাইলেও শ্বশুর-শাশুড়ির কারণে তা যথাযথভাবে সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় স্ত্রীকে ঢাকায় এনে নিজের কাছে রাখার ব্যবস্থাও করতে পারছেন না তিনি।

এ অবস্থায় স্ত্রীর পর্দা পালনের বিষয়ে কী করণীয়, তা জানতে চান ওই ব্যক্তি। জবাবে মুফতি জাওয়াদ তাহের পর্দার বিধান মেনে চলার পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে পর্দা জরুরি

মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামে যেসব পুরুষের সামনে নারীর পর্দা করা আবশ্যক, তাদের সামনে যথাযথ পর্দা বজায় রাখতে হবে। স্বামীর ভাই, অর্থাৎ দেবর ও ভাসুরসহ অন্যান্য গায়রে মাহরাম পুরুষের ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি সহিহ বুখারির একটি হাদিস উল্লেখ করেন। হাদিসটিতে স্বামীর নিকটাত্মীয় পুরুষদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পর্কের কারণে গায়রে মাহরাম পুরুষের সঙ্গে অবাধ মেলামেশাকে স্বাভাবিক হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। বরং শরিয়তের বিধান অনুযায়ী শালীনতা ও পর্দা বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের পর্দা পালন করতে হবে, তা শরিয়তের বিস্তারিত বিধান অনুযায়ী বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক বাস্তবতা ও কর্মপরিবেশের বিষয়টিও মাথায় রেখে পর্দা পালনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।

বাবা-মাকে বুঝিয়ে পর্দার পরিবেশ তৈরির পরামর্শ

স্ত্রীর পর্দা পালনের বিষয়ে প্রথমেই বাবা-মায়ের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে না পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই আলেম। তার মতে, স্বামীর উচিত বাবা-মায়ের সঙ্গে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কথা বলা এবং বিষয়টির ধর্মীয় গুরুত্ব বোঝানো।

বাবা-মাকে বোঝানো যেতে পারে, স্ত্রী তাদের সেবা-যত্ন করতে এবং সংসারের কাজে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তবে এসব কাজ করার সময় যেন তিনি শরিয়তসম্মত পোশাকে পর্দা বজায় রাখতে পারেন, সে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এ জন্য ঘরের কাজের ধরন ও সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। এমনভাবে কাজ ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে, যাতে গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে আসার প্রয়োজন কমে যায়। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় পর্দা পালনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হলে স্ত্রীকে তার ধর্মীয় অনুশীলন বজায় রাখতে তুলনামূলক কম সমস্যায় পড়তে হবে।

এ ক্ষেত্রে স্বামীর দায়িত্ব শুধু স্ত্রীকে পর্দার কথা বলা নয়; বরং বাস্তব পরিস্থিতিতে তিনি কীভাবে পর্দা পালন করতে পারবেন, সে বিষয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে সমাধান খোঁজাও গুরুত্বপূর্ণ।

শরিয়তবিরোধী কাজে বাধ্য করলে কী করবেন?

মুফতি জাওয়াদ তাহেরের বক্তব্য অনুযায়ী, বাবা-মা যদি এমন কোনো কাজে বাধ্য করেন, যা শরিয়তবিরোধী, তাহলে সে কাজে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে কিংবা তাদের অধিকার উপেক্ষা করা যাবে।

ইসলামের একটি মৌলিক নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আল্লাহর অবাধ্যতা হয়— এমন কাজে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যায় না। অর্থাৎ ধর্মীয় বিধান পালনের ক্ষেত্রে যেমন সচেতন থাকতে হবে, তেমনি বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রেও শালীনতা ও সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে উত্তেজিত হয়ে সম্পর্ক নষ্ট করার পরিবর্তে ধৈর্য ধরে কথা বলা, পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতা নেওয়া এবং পর্দা পালনের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা খুঁজে বের করাই হতে পারে কার্যকর পথ।

আর্থিক অসচ্ছলতা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা

প্রশ্নকারী জানিয়েছেন, তিনি ঢাকায় চাকরি করলেও স্ত্রীকে নিজের কাছে এনে রাখার মতো আর্থিক সামর্থ্য এখনো তার নেই। এ অবস্থায় স্ত্রীকে গ্রামে রেখে কীভাবে পর্দার ব্যবস্থা করা যায়, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন মুফতি জাওয়াদ তাহের।

তিনি বলেন, স্ত্রীর পর্দা ও দ্বীনদারি রক্ষার জন্য গ্রামে চাকরি বা ব্যবসার ব্যবস্থা করা কিংবা স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে আসার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও সামর্থ্য অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তার পরামর্শ, আপাতত স্ত্রীকে গ্রামে কাজের জন্য ঘরের বাইরে যেতে হলে কাজের উপযোগী ঢিলেঢালা বোরকা অথবা আকর্ষণহীন সাধারণ পোশাক পরতে হবে। পাশাপাশি বড় ওড়না দিয়ে মাথা, বুক ও পিঠ ঢেকে রাখার কথা বলেছেন তিনি। মুখ ঢাকার জন্য নিকাব বা বড় মাস্ক ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে এসব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্ত্রীর জন্য আরও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াও প্রয়োজন। আর্থিক সামর্থ্য বাড়লে স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে আসা, কাজের বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা কিংবা পরিবারের সহযোগিতায় পর্দাবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।

সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব নয়

উত্তরে মুফতি জাওয়াদ তাহের পবিত্র কোরআনের সূরা আত-তালাকের সপ্তম আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। আয়াতটির অর্থ হলো, আল্লাহ কাউকে তাঁর দেওয়া সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।

এ আয়াতের আলোকে তিনি প্রশ্নকারীকে সামর্থ্য অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে স্ত্রীকে ঢাকায় এনে রাখার ব্যবস্থা করতে না পারলেও সমস্যাটিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কীভাবে পর্দা পালন সহজ করা যায়, তা নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে পারিবারিক দায়িত্ব ও ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা যায়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৯ অক্টোবর ২০২৬,/সকাল ১১:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit