মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন হারাম

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ Time View

ডেস্ক নিউজ : মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই বিবাহ হলো শালীন, পবিত্র ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবষ্টার মূল ভিত্তি। ইসলাম ধর্মে বিয়ে কেবল একটি সামাজিক প্রথা নয়, বরং অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় একটি ইবাদত। নবী করিম (সা.) যুবসমাজকে সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত বিয়ে করার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, এটি লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং চোখকে সংযত রাখে।

তবে এই পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে শরিয়তের সুনির্দিষ্ট কিছু গণ্ডি ও নীতিমালা রয়েছে। বংশের পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইসলাম কিছু নির্দিষ্ট নারীর সঙ্গে বিবাহ চিরতরে বা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা এবং হাদিসের আলোকে কোনো কোনো নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্পূর্ণ হারাম, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

ইসলামে চিরতরে বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ যেসব নারী

পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু নারীর একটি স্পষ্ট তালিকা দিয়েছেন, যাদের সঙ্গে একজন পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা চিরতরে হারাম। বংশগত (নসবী), বৈবাহিক (সোহবত) এবং দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই ১৪ শ্রেণির নারী নির্ধারিত হয়েছেন। তারা হলেন—

১. মা: দাদী ও নানী— যত ওপরের স্তরেরই হোন না কেন।

২. সৎ মা: বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (দাদা ও নানার স্ত্রীরাও এর অন্তর্ভুক্ত)।

৩. মেয়ে: পৌত্রী (নাতনি) ও দৌহিত্রী—যত নিচের স্তরেরই হোক না কেন।

৪. বোন: সহোদর, বৈমাত্রেয় (বাবার দিক থেকে) এবং বৈপিত্রেয় (মায়ের দিক থেকে) সব বোন।

৫. ফুফু: বাবা ও দাদার তিন প্রকারের বোন।

৬. খালা: মা, নানী ও নানীর তিন প্রকারের বোন।

৭. ভাতিজী: ভাই ও তার তিন প্রকারের সন্তানদের মেয়েরা।

৮. ভাগিনী: বোন ও তার তিন প্রকারের সন্তানদের মেয়েরা।

৯. দুধ মা: যে নারী শৈশবে স্তন্যপান করিয়েছেন।

১০. দুধ বোন: একই দুধ মায়ের অন্য সন্তান (তার মেয়ে, ভাতিজি ও ভাগিনিও এর অন্তর্ভুক্ত)।

১১. শাশুড়ি: স্ত্রীর মা ও তার ওপরের বংশের নারীরা।

১২. সৎ মেয়ে: যে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা হয়েছে, তার পূর্ব ঔরসজাত কন্যা।

১৩. পুত্রবধূ: নিজ পুত্র বা পৌত্র-দৌহিত্রের স্ত্রী—যত নিচের স্তরেরই হোক।

১৪. দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা: অর্থাৎ কোনো নারী বিবাহাধীনে থাকাকালীন তার বোনকে বা তার ফুফু, খালা, ভাতিজি ও ভাগিনিকে একত্রে বিবাহ করা হারাম।

এই নিষিদ্ধতার মূল ভিত্তি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا – حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُختِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّপَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخْلْتُمْ بِهِنَّ…

‘আর তোমরা বিবাহ করো না সেই নারীদিগকে, যাদেরকে তোমাদের পিতারা বিবাহ করেছিল; তবে যা অতীতে হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীলতা, ঘৃণাভাজন ও মন্দ রীতি। তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি, ভাগিনি, সেই দুধ-মাতা যারা তোমাদের স্তন্যপান করিয়েছে, দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা এবং তোমরা যাদের সঙ্গে সহবাস করেছ সেই স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের কোলে প্রতিপালিত হয়…।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ২২-২৩)

১৪ নারী ছাড়াও আরও যেসব ক্ষেত্রে বিবাহ হারাম

উপরে বর্ণিত ১৪ জন ছাড়াও পরিস্থিতি ও সামাজিক সম্পর্কের কারণে আরও কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরিয়তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিকহের কিতাবাদীর আলোকে সেই ক্ষেত্রগুলো হলো—

১. একসঙ্গে চারের অধিক নারীকে বিবাহ করা।

২. এমন নিকট সম্পর্কের দুজন নারীকে একসঙ্গে বিবাহ করা, যাদের একজন যদি পুরুষ হতো, তবে অন্যজনকে বিবাহ করা বৈধ হতো না (যেমন—ফুফু ও ভাতিজিকে একসঙ্গে রাখা)।

৩. স্বাধীন নারীকে বিবাহ করার পর কোনো ক্রীতদাসীকে বিবাহ করা (শর্ত সাপেক্ষে)।

৪. অন্য পুরুষের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী বা স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তাকে বিবাহ করা।

৫. মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের বা মুশরিক নারীকে বিবাহ করা।

৬. কোনো নারীর জন্য নিজের গোলাম বা দাসকে বিবাহ করা।

৭. কোনো স্বামীর জন্য নিজের তিন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে পুনর্বিবাহ করা—যতক্ষণ না অন্য পুরুষের সঙ্গে তার বৈধ বিয়ে হয় এবং সেই স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায় (তাহলিল বা হালালা ছাড়া)।

৮. যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করা হয়েছে বা উত্তেজনার সঙ্গে স্পর্শ করা হয়েছে, তার মা, নানি, মেয়ে বা নানিকে বিবাহ করা হারাম।

৯. অন্যের বৈধ বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা।

ইসলামি শরিয়তে বিয়ের বিধান অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পবিত্র। রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করতেই আল্লাহ তাআলা নিষিদ্ধ নারীদের এই সীমারেখা টেনে দিয়েছেন। এই নিয়মগুলো মেনে চলা কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং মানব সভ্যতার নৈতিকতা ও বংশমর্যাদা রক্ষার অপরিহার্য শর্ত। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে বিবাহ সংক্রান্ত এই বিধানগুলো সঠিকভাবে জানা এবং তা মেনে চলা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা আমাদের শরিয়তের প্রতিটি বিধান যথাযথভাবে মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১১:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit