শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আগামী মাসেই শুরু হবে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন: গভর্নর উন্নয়নে গুরুত্ব পাবে সব উপজেলা: এলজিআরডি মন্ত্রী ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর রোনালদোকে নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল হরমুজ খুললেও কাটছে না জ্বালানি সংকট, কবে কমবে পেট্রল-ডিজেলের দাম? স্ত্রীর থেকে আলাদা ৩৫ বছর, কেন আইনি বিচ্ছেদে যাননি নানা পাটেকর? ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের ১৭০ কি. মি বেগে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানল হ্যারিকেন ইসাইয়াস ‘কখনো ক্ষমা চাননি’, নানা পাটেকরকে নিয়ে ফের মুখ খুললেন তনুশ্রী ‘মিস্টার মোদি যা খুশি করুন, আপনাকে আমরা ঘিরে ফেলছি, আমরা পেছাব না’

‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় দেশটির শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে কটাক্ষ করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। আম্বানিকে ভারতের প্রকৃত বস আখ্যা দেওয়ার পর এবার তাকে প্রধানমন্ত্রী সম্বোধন করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন মাস্ক। একই সঙ্গে অভিযোগ করেছেন, নিজেদের টেলিযোগাযোগ ব্যবসার আধিপত্য ধরে রাখতে স্টারলিংককে ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্টারলিংকের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্টারলিংক মূলত মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX)-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের আসল বস, তা বুঝতে না পারার জন্য দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা গ্রহণ করুন।’
এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান কি স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেবেন? মাস্কের অভিযোগ, ভারতের বাজারে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান আম্বানি। স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক কয়েক বছর ধরে ভারতের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট বাজারটিতে সেবা চালুর অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাস্ক।
তিনি দাবি করেন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ভারত সরকারের আইন ও শর্ত মেনে চলার জন্য পাঁচ বছর ব্যয় করার পরও কেন এখনো পূর্ণ অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। মাস্কের মতে, স্টারলিংক চালু হলে প্রচলিত নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষা ও ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে দেওয়া আরেক পোস্টে মাস্ক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অন্য যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্টারলিংক জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতের মানুষের জীবন বাঁচাতেও এই সেবা সহায়তা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ভারত সরকার স্টারলিংকের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বক্তব্য, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো স্টারলিংককেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতের টেলিযোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, কোনো খাতেই একচেটিয়া আধিপত্য অনুমোদন করে না ভারত। স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগের প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর জন্য এখনো নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও তরঙ্গ বরাদ্দ প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্টারলিংক, রিলায়েন্সের জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ভারতী এয়ারটেল-সমর্থিত ইউটেলসাত ওয়ানওয়েব প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে এক শিল্প সমাবেশে স্টারলিংকের কর্মকর্তারা জানান, ভারত প্রস্তুত হলেই তারা সেবা চালু করতে প্রস্তুত। স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের অনুমোদন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর দেশটির আইন প্রয়োগের বিষয়টি। ভারতের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড বাজারের ৮০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল। সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে স্টারলিংকের সরঞ্জাম ও সেবা বিতরণের জন্য গত বছর প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে চুক্তি করেছিল স্পেসএক্স।
তবে জিও ও এয়ারটেল নিজেরাও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসায় এগোচ্ছে। রিলায়েন্স লাক্সেমবার্গভিত্তিক এসইএসের সঙ্গে অংশীদারত্বে জিও স্যাটেলাইট সেবা গড়ে তুলছে। অন্যদিকে, স্টারলিংকের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইউটেলসাত ওয়ানওয়েবে বড় বিনিয়োগ রয়েছে এয়ারটেলের। আম্বানির সঙ্গে মাস্কের এই বিরোধ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার আগের সুসম্পর্কের বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মোদি ও মাস্কের বৈঠকের পর ভারতে টেসলার গাড়ি কারখানা স্থাপন এবং স্টারলিংকের সেবা চালুর অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু ভারতে মাস্কের ব্যবসায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মুম্বাইয়ে প্রথম বিক্রয়কেন্দ্র খুলে আমদানি করা গাড়ি বিক্রি শুরু করে টেসলা। তবে ভারত সরকার চেয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান তৈরি করুক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ১৫ মাসে ভারতে টেসলার গাড়ি বিক্রি হয়েছে মাত্র এক হাজারটি। উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে গাড়িগুলোর দাম বেশি হলেও চীনের বিওয়াইডি এবং ভিয়েতনামের ভিনফাস্টের মতো তুলনামূলক কম দামের গাড়ি নির্মাতারা দেশটিতে ব্যবসা বাড়াচ্ছে।

এছাড়া অনলাইন কনটেন্ট সরানোর বিষয়ে ভারত সরকারের নির্দেশ নিয়ে মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের সঙ্গে আইনি বিরোধ চলছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাস্কের সম্ভাব্য দুটি ভারত সফরও বাতিল হয়েছিল। মাস্কের মন্তব্য ভারতের রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ব্যবসায়িক আধিপত্য নিয়ে মাস্কের এক মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নাম উল্লেখ না করে লিখেছিলেন, ‘ভারতে স্বাগতম, ইলন।

আপনি অন্য ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’রাহুলের এই মন্তব্যকে আরেক ধনকুবের গৌতম আদানির প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। জবাবে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘ধন্যবাদ, রাহুল। এটি সত্যিই উদ্বেগজনক।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১০ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit