রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন

এআই মডেলগুলোতে বাংলা ভাষার উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে হবে : ঢাবি উপাচার্য

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এআই মডেলগুলোতে বাংলা ভাষার সেবা ও উপস্থিতি বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, বাংলাদেশের মতো বদ্বীপীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও মাদকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক এআই মডেলগুলোতে আমাদের সমস্যাগুলো যথাযথভাবে স্থান পাওয়া দরকার।

গতকাল ১০ অক্টোবর(২০২৬) শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ আয়োজিত COMPAS ২০২৬- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান এবং COMPAS ২০২৬-এর জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক স্বাগত বক্তব্য দেন। আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

‎উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি-যখন কম্পিউটিং প্রযুক্তি প্রতিটি ক্ষেত্রকে আমূল বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এআই মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই গবেষণাগারের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। বিশাল আকারের ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো এখন খসড়া তৈরি, অনুবাদ এবং কোড লেখার কাজ করছে। এআই সিস্টেমগুলো মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণ করছে, ফসলের পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং কৃষকদের ফসল তোলার পরিকল্পনায় সহায়তা করছে। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও এআই প্রোটিনের গঠন নির্ণয়, নতুন উপাদান আবিষ্কার এবং গবেষণার সময়কাল কমিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে।

এছাড়া আমাদের কারখানা, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং ঘরবাড়ির নেটওয়ার্কিং এআই-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি কোনো দূরবর্তী বা কাল্পনিক ঘটনা নয়। আমরা ১৭-১৮ কোটি মানুষের জাতি; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আমাদের জন্য যেমন এক বিশাল সুযোগ বয়ে এনেছে, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাস্তব ঝুঁকিও। তাই এআই যদি কেবল অন্য কোনো দেশে বা পরিবেশে তৈরি হয়, তবে তা মূলত সেই পরিবেশের প্রয়োজনেই গড়ে উঠবে—যেখানে প্রশিক্ষণ বা ডেটা হিসেবে ব্যবহৃত হবে অন্য ভাষা, অন্য হাসপাতাল, অন্য কৃষি-খামার ও অন্য নদ-নদীর তথ্য। অথচ বাংলা ভাষায় কথা বলেন ২৩ কোটিরও বেশি মানুষ; তা সত্ত্বেও বর্তমানের এআই ব্যবস্থাগুলোতে বাংলা ভাষার সেবা বা উপস্থিতি এখনো সীমিত। এ বিষয়ে কাজ করার জন্য তিনি গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার বিতরণ:

তৃতীয় আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং, অ্যাপ্লিকেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস সম্মেলনে মোট ৬১৬টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে ২১২টি গৃহীত হয় (গ্রহণের হার প্রায় ৩৪.৪%)।
৩টি গ্রুপকে সেরা গবেষণা অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।
গবেষণার অবদান হিসেবে মোট ৮০ হাজার টাকার Best Paper Award প্রদান করা হয়:

প্রথম সেরা গবেষণাপত্র (৩৫ হাজার টাকা): বুয়েট ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গ্রাফ নিউরাল নেটওয়ার্কবিষয়ক গবেষণা।

দ্বিতীয় সেরা গবেষণাপত্র (২৫ হাজার টাকা): ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার প্রবাদ-প্রবচনবিষয়ক গবেষণা।

তৃতীয় সেরা গবেষণাপত্র (২০ হাজার টাকা): রুয়েট-এর স্বল্পব্যয়ী পানির নিচের প্রযুক্তিবিষয়ক (Low-cost Underwater Technology) গবেষণা।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের ধারাবাকিতায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

কিউএনবি/আয়শা/১১ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit