বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন

নোবিপ্রবিতে মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস শীর্ষক আন্তর্জাতিক    কনফারেন্সের উদ্বোধন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ Time View

গিয়াস রনি নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস ((এমআইইটি) ২০২৬’ শীর্ষক ৩য় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে আমাদের সামনে যেমন বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই শুধু প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভর না করে আমাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন এসেছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর এবং বাজারজাত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন,  আমাদের স্থানীয় সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান বের করতে হবে। এক্ষেত্রে ফান্ডিং অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উদ্যোগের অভাব। আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া সম্ভব। এ সময় ইনোভেশন  ফেয়ারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও উদ্ভাবনগুলোর সারসংক্ষেপ করে কীভাবে সেগুলো বাজারে নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জনান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য।

এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। উপাচার্য আরও বলেন, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন এবং গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা সম্মেলনের আন্তর্জাতিক পরিসর ও গবেষণা সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বক্তব্যে গবেষকদের জন্য এ সম্মেলনটিকে একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম উল্লেখ করে দেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের অর্গানাইজিং চেয়ার মো. ইফতেখারুল আলম ইফাতসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ।

কনফারেন্সে কী-নোট স্পিকার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. লতিফুর খান, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির এলমোর স্কুল অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক মুহাম্মদ এম. হুসেইন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শেখ মো. শরিফুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মূরস প্রফেসর ঝু হান। এতে ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে ছিলেন আহসান উল্ল্যাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিম আখত্রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ম্যাথমেটিক্স এন্ড কম্পিউটার সায়েন্স ডিভিশনের পোস্ট ডক্টরাল অ্যাপয়েন্টি ড. আহমেদুর রহমান শোভন।

উল্লেখ্য, এবার কনফারেন্সে মোট ৩৩৫ টি পেপারের মধ্যে ৫৪ টি পেপার চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অফ থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সেন্সিং এবং নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের  পেশাজীবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিনিময় ও তাদের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরার সুযোগ করে  দেওয়াই এই সম্মেলনের লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের তাদের মৌলিক, অভিনব এবং অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র এই সম্মেলনে জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালী, আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ, বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক গবেষক তাদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ (CNSER), ক্রিয়েটিভ ইনস্টিটিউটস অব ক্যারিয়ার্স, টেকনোলজি এন্ড রিসার্চ (CICTR) এবং স্প্রিংগার।

কিউএনবি/আয়শা/০৮ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit