সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

পাহাড়ে টানা বর্ষণ, বন্যায় রাঙামাটির মৎস্য খাতে প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ২৩ Time View

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : টানা ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং সাম্প্রতিক বন্যায় রাঙামাটি জেলার মৎস্য খাতে প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ১০ উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নের ২২৩টি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৯৭ দশমিক ৬৭ হেক্টর পুকুর, ক্রিক ও জলাশয় প্লাবিত হয়ে ৮৯ মেট্রিক টন ফিন ফিশ এবং প্রায় ২২ লাখ মাছের পোনা ভেসে গেছে বা নষ্ট হয়েছে। রাঙামাটি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত মাছের বাজারমূল্য ১৮৮ দশমিক ১০ লাখ টাকা, প্রায় ২২ লাখ পোনার ক্ষতি ১০০ দশমিক ৭৫ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন মৎস্য অবকাঠামোর ক্ষতি ১০৫ দশমিক ৪৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯৪ দশমিক ৩২ লাখ টাকা। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৮১টি মৎস্য খামার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৪৩ দশমিক ৮৭ হেক্টর জলাশন প্লাবিত হয়ে ৬২ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন মাছ এবং ১৬ দশমিক ২৭ লাখ মাছের পোনা নষ্ট হয়েছে। উপজেলাটিতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৫৫ দশমিক ৩১ লাখ টাকা।

জুরাছড়ি উপজেলার ২৪টি খামারে ক্ষতি ৬৬.৪২ লাখ টাকা, কাউখালী উপজেলার ৩০টি খামারে ২১.৫০ লাখ টাকা, রাজস্থলী উপজেলার ৫৭টি খামারে ১৫.৮৬ লাখ টাকা, কাপ্তাই উপজেলার ৬টি খামারে ১১.৮০ লাখ টাকা,বরকল উপজেলার ১৫টি খামারে ৮.৫০ লাখ টাকা,লংগদু উপজেলার একটি খামারে ৬.৪০ লাখ টাকা, বিলাইছড়ি উপজেলার একটি খামারে ৪.৩০ লাখ টাকা,নানিয়ারচর উপজেলার ৩টি খামারে ২.৫৫ লাখ টাকা,রাঙামাটি সদর উপজেলার ৬টি খামারে প্রায় ১.৮০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, “টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুর, ক্রিক ও জলাশয় প্লাবিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খাতের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”তিনি বলেন, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে রাঙামাটি জেলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে জেলা মৎস্য বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে নেমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি খামারি ও মৎস্যচাষীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।

পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত হলে তা দ্রুত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। কারণ দুর্গম এলাকার কিছু তথ্য এখনও সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে। মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক প্রান্তিক পরিবার জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে ক্ষুদ্র পরিসরে মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। বন্যায় মাছ ও পোনা হারিয়ে এসব পরিবার নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে মাছের পোনা বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও বাঁধ সংস্কারে আর্থিক সহায়তা, স্বল্পসুদে ঋণ, মাছের খাদ্য ও উৎপাদন উপকরণ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পার্বত্য এলাকায় চরম আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বন্যাসহনশীল মৎস্য অবকাঠামো নির্মাণ, জলাশয়ে সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এতে প্রান্তিক মৎস্যচাষিদের জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে এবং জেলার মৎস্য উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাবও কমবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ জুলাই ২০২৬,/বিকাল ৪:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit