শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে টিকেট কারসাজি, দুদকের অনুসন্ধান

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬১ Time View

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগে সক্রিয় সিন্ডিকেটের বিষয়টি তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে কক্সবাজার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানীর কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকিট বিক্রির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, অনলাইন-অফলাইন ডেটা, কোটা বরাদ্দ, রিফান্ড রেকর্ড, ডিউটি রোস্টারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে টিকিট ‘ব্লক’ করে সাধারণ যাত্রীদের বঞ্চিত করে পরে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। এতে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতবদল হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, কাউন্টার কিংবা অনলাইন-কোনো মাধ্যমেই সহজে টিকিট পাওয়া যায় না, কিন্তু পরে একই টিকিট বেশি দামে পাওয়া যায়।

স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “তদন্ত চলমান, সত্যতা থাকলে তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন চালুর পর থেকেই টিকিট সংকট ও কালোবাজারির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। একই বছরের ডিসেম্বরে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রী সংখ্যা বাড়ার কারণে টিকিটের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগকে কেন্দ্র করেই সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম শিগগিরই সরেজমিনে তদন্ত শুরু করবে এবং প্রতিবেদন দাখিলের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন স্টারমানের হোটেলের সঙ্গে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানী রুম বুকিংয়ের বিপরীতে কমিশন নেন এবং সেই সূত্রে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম রব্বানী বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তিনি কখনো ঘুষ নেননি। তিনি বলেন, “আমি একটি টাকাও ঘুষ খাই না। আমাকে অফিসে রাখা হয়েছে-বদলি না করলে আমি কী করবো?”

তিনি আরও দাবি করেন, কক্সবাজার রেলপথে আগত ভিআইপি যাত্রীদের সেবা ও ব্যবস্থাপনা অনেকেই ঠিকভাবে করতে না পারলেও তিনি তা সক্ষমতার সঙ্গে করতে পারেন বলেই কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্বে রেখেছে।

দুদকের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদক তার কাছে তথ্য চেয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় তথ্য তার কাছে নেই। এসব তথ্য প্রধান কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি দুদককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

কিউএনবি/অনিমা/১৮ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ১:১৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit