ডেস্ক নিউজ : গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলো মায়াবি হরিণ নিধনের ভিডিও। সংরক্ষিত এই বন্যপ্রাণী চিত্রা হরিণটি মীরসরাই উপজেলার উপকূলাঞ্চলেই কিছু দুষ্কৃতকারী নির্মমভাবে জবাই করছিল।
কিন্তু এমন অনেক ঘটনা আছে, যা প্রকাশিত হচ্ছে না বলেই নীরবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উপকূলের মায়াবী প্রাণীগুলো। গত মঙ্গলবার ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, জলাশয়ের কিনারে একটি মায়াবি চিত্রা হরিণের পা চেপে ধরে রয়েছেন এক ব্যক্তি। অন্য একজন দা দিয়ে কুপিয়ে হরিণটির গলা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন। কিছুটা দূরে আরেক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে বন বিভাগ বলছে, আমরা এসব হরিণের যত্ন নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি; কিন্তু পারছি না কিছু প্রতিকূলতার দরুন। এ বিষয়ে সহযোগিতা চান বন কর্মকর্তারা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ইছাখালি ইউনিয়নের অর্থনৈতিক জোন বা মুহুরি প্রকল্প এলাকায়। এই এলাকাতে অবস্থিত মীরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে হরিণ জবাইয়ের ঘটনাটি গত ১১ এপ্রিল ঘটেছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছয় সেকেন্ডের। হরিণ জবাইয়ের সময় কাছাকাছি স্থান থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। হরিণ জবাইকারী ব্যক্তি এ সময় অনেকটা ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন করেন, ‘ভিডিও কেন ধারণ করা হচ্ছে।’ পালটা জবাবে ভিডিও ধারণকারী এতে কী সমস্যা জানতে চান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে এ ঘটনার সমালোচনায় মেতে ওঠেন অনেকেই। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিও জানান তারা।
বন বিভাগ জানায়, আগে মীরসরাই উপজেলার উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এই বন ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, মেছোবাঘ ও শত প্রজাতির পাখপাখালির আশ্রয়স্থল। তবে এলাকাটিতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বন উজাড় হতে শুরু করে। এর ফলে বন্যপ্রাণী ও পাখপাখালি হারিয়ে যেতে থাকে। শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা এলাকা ও এর বাইরে এখনো কিছু হরিণের অস্তিত্ব আছে। জবাই করা চিত্রা হরিণটি দলছুট হয়ে সেখান থেকে এসেছে বলে ধারণা বন কর্মকর্তাদের।
এ বিষয়ে উপকূলীয় বন বিভাগের মীরসরাই রেঞ্জের কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, ১১ এপ্রিল তিনজন দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। যতটুকু জানা গেছে, ওই তিন ব্যক্তি আশপাশের খামারে কাজ করে। তবে বন বিভাগ উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এখানকার অবশিষ্ট কিছু বনে হরিণ শাবকদের যত্ন ও বিশেষ কেয়ার করছে বলে জানিয়েছেন এবং হরিণের কেয়ার নেওয়ার ছবি তুলেও পাঠিয়েছেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ১১:২০