আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসরাইলকে ‘ভারি মূল্য’ দিতে হবে।
এদিকে, ইরানি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে বন্ধ এবং এই পথে যেকোনো ধরণের যাতায়াত কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিশেষ করে মার্কিন-ইসরাইল জোটের মিত্রদের কোনো জাহাজ এই জলসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তা সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সম্পৃক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তার দাবি, এবার আর ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি থাকবে না, বরং আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দুটি পারমাণবিক-সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যার একটি খোন্দাব হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্স এবং অন্যটি ইয়াজদের আরদাকানের ইয়েলোকেক উৎপাদন কেন্দ্র। তবে কোথাও তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানী তেহরানেও টানা বিমান হামলার মধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার একটি পাকিস্তান দূতাবাসের আশপাশে। এতে পাকিস্তানি কূটনীতিকরা নিরাপদ থাকলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই সময় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
এদিকে পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তৎপরতা বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রক্ষায় প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে।
এদিকে যুদ্ধের মাঝেই ইসরাইলের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু কোনো ফ্রন্টেই (গাজা, লেবানন বা ইরান) জেতার ক্ষমতা রাখেন না।’ তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে ২০ হাজার সৈন্যের ঘাটতি থাকলেও রাজনৈতিক কারণে সরকার কট্টরপন্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে না। সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনা এখন নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যার প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে পড়তে পারে।
কিউএনবি/আয়শা/২৮ মার্চ ২০২৬,/রাত ৮:৪০