মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‘আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে ঈদের পর সিদ্ধান্ত’ ঈদযাত্রায় মহাসড়কে বেড়েছে যাত্রীর চাপ সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর পার্লামেন্ট বসল মিয়ানমারে যেসব এলাকায় রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় বাজেট সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন থাউজেন্ড ডেইস ডট লাইফ হসপিটালের উদ্যোগে বিভিন্ন এতিমখানা মাদ্রাসায় ইফতার বিতরণ॥ শরীয়তপুর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিদ্ধান্তে ৩ আইনজীবীর প্রতিবাদ দুর্গাপুর সীমান্তে বিজিবি‘র অভিযান ৫০ বোতল ভারতীয় মদ আটক অবসরে গেলেন আর্জেন্টিনাকে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার নায়ক ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার স্বপ্ন কতটা পূরণ হবে?

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার স্বপ্ন কতটা পূরণ হবে?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।  

গত কয়েক সপ্তাহে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে এই নৌপথের নিরাপত্তা এখন সুতার ওপর ঝুলছে। যদি তেহরান তার হুমকির বাস্তবায়ন ঘটিয়ে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম রাতারাতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জন্য একটি নৌবাহিনী জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন, একটি নৌবাহিনী জোট গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিরাপদ রাখতে পারবে। হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

অবশ্য ট্রাম্পের এই আশা মনে হয় আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তার ইউরোপীয় মিত্ররাসহ অনেক মিত্র দেশ ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তাদের অনীহার কথা জানিয়ে দিয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশ করায় নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ যুদ্ধ শেষ করার বা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনো পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ইরান কীভাবে হরমুজ প্রণালিতে বাধা সৃষ্টি করছে, তা বিস্তারিত আমি বলতে পারছি না। তবে এটুকু বলা যথেষ্ট যে এখন নিরাপদে প্রণালিটি আবার কীভাবে খুলতে হবে, তা তারা জানেন না।’

ইরানকে আরও বোমা হামলার হুমকি দেওয়ার পর এবার ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার শতভাগ এরই মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। তেহরান এখন এক বা দুটি ড্রোন পাঠাতে পারে, একটি মাইন ফেলতে পারে এবং এই জলপথের কোথাও কাছের দূরত্বে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশ—যারা এই কৃত্রিম সংকটের কারণে প্রভাবিত হয়েছে, তারা এ অঞ্চলে জাহাজ পাঠাবে; যাতে হরমুজ প্রণালি আর কোনো দেশের কারণে হুমকির মুখে না পড়ে, এমন দেশ যেটি সম্পূর্ণরূপে অক্ষম হয়ে পড়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র কী করবে সে পরিকল্পনাও ট্রাম্প জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র (ইরানের) উপকূলরেখায় ব্যাপক বোমা হামলা চালাবে এবং ইরানি নৌকা ও জাহাজকে নিয়মিতভাবে ধ্বংস করবে। যেকোনো উপায়ে হোক, আমরা শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে খোলা, নিরাপদ ও মুক্ত করে দেব।’

কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প আরেকটি পোস্টে বলেন, যারা তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে নৌবাহিনী জোটে অংশ নেবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক সহায়তা’ দেবে। তবে ট্রাম্পের জন্য হতাশার খবর হচ্ছে, তার কোনো মিত্র দেশই তার এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলীরেজা টাংসিরি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করে দেওয়ার বা তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র করছে, তার সবই মিথ্যা।

বিবৃতিতে আলীরেজা আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি সামরিকভাবে অবরুদ্ধ করা হয়নি, এটি কেবল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।’

পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে, কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাহাজ ব্যতীত।

আরাগচি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা আছে। এটি কেবল আমাদের শত্রুদের ট্যাঙ্কার ও জাহাজের জন্য বন্ধ, যারা আমাদের এবং তাদের নিজেদের মিত্রদের ওপর হামলা করছে; অন্যরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।’

হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থান মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল (৩৯ কিলোমিটার) চওড়া। এটি আরব উপসাগরে (ইরানে পারস্য উপসাগর নামে পরিচিত) প্রবেশের একমাত্র সামুদ্রিক পথ। প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নৌপথ লেনগুলো আরও সংকীর্ণ এবং আক্রমণের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এটির এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সংক্ষেপে বলতে গেলে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে সমুদ্রপথে ঢোকা বা বেরোনোর কোনো উপায় থাকে না। এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে উপায় ট্রাম্প বলছেন, তা নিয়ে আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেকজান্দ্রু হুদিস্টেয়ানু। তিনি রোমানিয়ার নৌবাহিনীতে ১৩ বছর কাজ করেছেন।

হুদিস্টেয়ানু বলেন, ট্রাম্প যে ধরনের জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, সেখানে ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বা একযোগে কাজ করার সক্ষমতাই সবচেয়ে বড় বাধা। কারণ, এমন পরিস্থিতিতেও মৌলিক যোগাযোগই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘এরপর আছে হরমুজ প্রণালির ভূপ্রকৃতি। এ ধরনের যুদ্ধকালীন হুমকির মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য এটি একটি খুবই কঠোর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ।’

তা ছাড়া নিরাপত্তার জন্য পণ্যবাহী জাহাজকে পাহারার ব্যবস্থা করা একটি ব্যয়বহুল বিকল্প হবে। এতে অংশগ্রহণকারী বিদেশি যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর ইরানি আক্রমণের ঝুঁকিও থাকবে, যা হয়তো আরও দেশকে চলমান যুদ্ধে টেনে আনবে।

হুদিস্টেয়ানু বলেন, ইরানের দিক থেকে, হরমুজ প্রণালি তাদের উপকূলরেখার একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এবং জলপথটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অনেক বেশি জাহাজ চলাচলের কারণে স্বাভাবিকভাবে তাদের জন্য এটি একটি সুবিধা। 

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরান এই পথে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে—তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে না। হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে যেকোনো নৌবাহিনী জোটের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে, যেকোনো অভিযান ঠিক কত সময় ধরে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করা।

এ পর্যন্ত কোনো দেশই ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানে প্রকাশ্যে সম্মতি জানায়নি। লন্ডন বলেছে, সামুদ্রিক পথটি আবার কীভাবে খোলা যায়, তা নিয়ে তারা ‘গভীরভাবে বিবেচনা’ করছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বেইজিং সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। স্থিতিশীল ও বাধাহীন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্বের ভেতর পড়ে।

জাপান বলেছে, এ ধরনের অভিযানে তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানো ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’। ফ্রান্সও যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিজেদের তেল পরিবহন নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

দুটি ভারতীয় পতাকা বহনকারী ট্যাঙ্কার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে। নয়াদিল্লি তাদের মোট এলপিজি আমদানির ৮০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে আমদানি করে।’ইরানে যুদ্ধের কারণে ভারতে ৩৩ কোটির বেশি পরিবার মারাত্মকভাবে রান্নার গ্যাসের সংকটে পড়েছে।

নয়াদিল্লির সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাননি। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রথম দিনেই আলী খামেনি নিহত হন।

বরং মোদি উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। 

ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাথালি বলেন, তেহরান কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যা চলমান অবরোধের একটি বিরল ব্যতিক্রম।

তুরস্কের মালিকানাধীন একটি জাহাজও গত সপ্তাহে অনুমতি পেয়েছে। আঙ্কারা সরাসরি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাহাজটির প্রণালি পারাপারের ব্যবস্থা করেছে। আরও ১৪টি তুর্কি জাহাজ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফ্রান্স এবং ইতালিও ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন বলে জানা গেছে। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৭ মার্চ ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit