আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের চলমান সংঘাত কীভাবে থামানো যায়—এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে। সীমান্তে বিমান হামলা ও পাল্টা আক্রমণের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ নয়, আলোচনার টেবিলেই এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তবে সে জন্য দুই পক্ষেরই আন্তরিকতা দরকার।
পাকিস্তান যুদ্ধ ঘোষণা করে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের হামলায় কমপক্ষে ২৭৪ আফগান সেনা নিহত ও ৩১৪ জন আহত হয়েছেন। ৭৪টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস এবং ১৮টি দখলের কথাও বলা হয়েছে। তবে আফগান তালেবান সরকার জানিয়েছে, তাদের আট সেনা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
কাতার ইতিমধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কাতার জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ মেটানোর পক্ষে।
পেশোয়ারভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইফতিখার ফিরদৌস বলেন, আগের ভেঙে যাওয়া আলোচনা আবার সেখান থেকেই শুরু করতে হবে। শুধু কথা বললেই হবে না, চুক্তি বাস্তবায়নও জরুরি। তার মতে, তুরস্ক, কাতার, চীনসহ যেসব ‘বন্ধু দেশ’ আগে মধ্যস্থতা করেছে, তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া উত্তেজনা কমানো কঠিন।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, তারা আলোচনা চায়। তবে এর জন্য বিপরীত পক্ষের বাস্তব ও আন্তরিক পদক্ষেপ দরকার।
পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবু বিশ্লেষকদের মতে, শক্তি প্রয়োগে সাময়িক ফল মিললেও স্থায়ী শান্তি আসবে কেবল সংলাপ ও আস্থার মাধ্যমে।
কিউএনবি/অনিমা/২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সকাল ৬:৩২