স্পোর্টস ডেস্ক : গত মৌসুমে ইউরোপা লিগ জিতলেও প্রিমিয়ার লিগে ১৭তম হওয়ায় চাকরি হারাতে হয়েছিল পোস্তেকোগলুকে। চলতি মৌসুমেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উড়ছে স্পার্স, টেবিলের চতুর্থ স্থানে থেকে নিশ্চিত করেছে শেষ–১৬। কিন্তু লিগে অবস্থার পরিবর্তন নেই, এই মৌসুমে আছে ১৬ নম্বরে। অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র ৫ পয়েন্ট ওপরে অবস্থান করায় চাকরি হারিয়েছেন পোস্তেকোগলুর জায়গায় আসা থমাস ফ্র্যাঙ্কও। আর এরপর খোঁচা দেয়ার সুযোগ ছাড়েননি পোস্তেকোগলু।
এই অস্ট্রেলিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, টটেনহ্যাম কোনো ‘বড়’ ক্লাব নয়। পোস্তেকোগলুর মতে, অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে যেকোনো কোচের পক্ষেই এখানে সফল হওয়া কঠিন। স্পার্সে নিজের দুই বছরের সময়কাল নিয়ে ‘দ্য ওভারল্যাপ’-এ কথা বলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ বলেন, ‘তারা (টটেনহ্যামের কর্তৃপক্ষ) আপনাকে কী বলে, সেটাই আসল বিষয় নয়—বরং বাইরে কী বার্তা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি আরও বলেন, ‘টটেনহ্যাম ক্লাব হিসেবে বলবে, “আমরা বড় ক্লাবগুলোর একটি।” কিন্তু গত দুই বছরে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বাস্তবে তারা সেই অর্থে বড় নয়। আর্সেনালের যখন খেলোয়াড় দরকার হয়, তারা ডেকলান রাইসের জন্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে। টটেনহ্যামকে আমি তা করতে দেখি না। শুধু আমার সময় নয়, তার আগেও।’
ফ্র্যাঙ্কের বিদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কঠিন পরিস্থিতি। সে একা ক্লাবের সব সমস্যার কারণ হতে পারে না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের ফলাফলের ভিত্তিতেই বিচার করা হয়। এটা আমার সময়ের কথায়ও ফিরে যায়। টটেনহ্যাম একটা কৌতূহলজনক ক্লাব। গত বছরের শেষে শুধু আমাকে নয়, ড্যানিয়েল লেভিও (সভাপতি) চলে যাওয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘তারা বিশ্বমানের কোচ এনেছে, কিন্তু সাফল্য পায়নি। কেন? এত বড় পরিবর্তনের কারণ কী? থমাস চলে যাচ্ছে, কিন্তু তার লক্ষ্য কী ছিল? ক্লাবের লক্ষ্যই বা কী? মৌসুমের শুরুতে বলা হয়েছিল, সব ফ্রন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কিন্তু অনেক দিন ধরেই ক্লাবটি সব ফ্রন্টে লড়াই করছে না। আর গত ২০ বছর ধরে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি (ড্যানিয়েল লেভি)ও চলে যাচ্ছেন।’
পোস্তেকোগলু যোগ করেন, ‘এত বড় পরিবর্তন আনলে অস্থিতিশীলতা আসবেই। থমাস ফ্র্যাঙ্ক কি জানতেন তিনি কী পরিস্থিতিতে আসছেন? জানি না। আমার কাছে এটা স্বাভাবিক বিদায় বলেই মনে হয়। যে কেউ খেলা বিশ্লেষণ করলে বুঝবে, খুব বেশি অগ্রগতি হচ্ছিল না। আমি গত কয়েক বছরে নির্দিষ্ট এক ধরনের খেলার জন্য দল গড়েছিলাম, আর সে এসে নিজের মতো করে করতে চেয়েছে। তাই বলছি, টটেনহ্যাম একটি কৌতূহলজনক ক্লাব।’নিউক্যাসলের কাছে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ২-১ গোলে হারের পর ফ্র্যাঙ্ককে বরখাস্ত করা হয়। পোস্তেকোগলুর অধীনে গত মৌসুমে টটেনহ্যাম ১৭তম স্থানে শেষ করে এবং প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে তাদের সর্বনিম্ন পয়েন্ট (৩৮) অর্জন করে। তবে তারা ইউরোপা লিগ জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।
পোস্তেকোগলু, যিনি সেপ্টেম্বরে নটিংহ্যাম ফরেস্টের কোচ হিসেবে যোগ দিয়েও মাত্র ৩৯ দিন পর টানা আট ম্যাচে জয়হীন থাকার কারণে বরখাস্ত হন, ব্যাখ্যা করেন কেন তিনি টটেনহ্যামকে ‘কৌতূহলজনক ক্লাব’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি কোচদের তালিকা দেখেন, তাহলে বোঝা যায় তারা আসলে কী করতে চায়—এর কোনো সুস্পষ্ট ধারাবাহিকতা নেই। টটেনহ্যামের ডিএনএর একটি অংশ—আর ভালো শব্দ না পেয়ে বলছি—তারা তাদের দলকে নির্দিষ্ট এক স্টাইলে খেলতে দেখতে পছন্দ করে।
মরিসিও’র (পচেত্তিনো) সময় তারা সেই পথে এগোচ্ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে, আমি মনে করি মানুষ হ্যারির (কেন) প্রভাবকে অবমূল্যায়ন করেছে। প্রথম বছরে যদি হ্যারি আমার দলে থাকত, আমি নিশ্চিত আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জায়গায় শেষ করতাম। সে চলে যাওয়ার পর সেই শূন্যতা পূরণ করা অসম্ভব।’
কিউএনবি/আয়শা/১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:০০