ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (এনআইএ) জানিয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানে কিম জু আয়ে’র ক্রমবর্ধমান প্রকাশ্য উপস্থিতিসহ ‘বিভিন্ন পরিস্থিতি’ বিবেচনায় নিয়ে তারা এই মূল্যায়নে পৌঁছেছে। এই খবর এমন সময়ে এলো যখন উত্তর কোরিয়া এ মাসের শেষ দিকে পার্টি কংগ্রেস আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক আয়োজন এবং প্রতি পাঁচ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়।
পার্টি কংগ্রেসে আগামী পাঁচ বছরের জন্য পিয়ংইয়ংয়ের পররাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধ পরিকল্পনা ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার মতো অগ্রাধিকারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিম জু আয়ে হলেন কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল-জু’র একমাত্র সন্তান (প্রকাশ্যে পরিচিত)। যদিও এনআইএ’র ধারণা, কিমের একজন বড় ছেলে থাকতে পারে, যার কথা কখনও স্বীকার করা হয়নি বা উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেখানো হয়নি।
ধারণা করা হয়, জু আয়ের বয়স ১৩ বছর। ২০২২ সালে তিনি প্রথম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হন, যেখানে তাকে তার বাবার হাত ধরে উত্তর কোরিয়ার অত্যাধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিদর্শন করতে দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা কিম জু আয়েকে মনোনীত উত্তরসূরি মনে করলেও, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কারণ গভীরভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বড় ছেলে থাকা সত্ত্বেও কেন একজন মেয়েবে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেয়া হবে তা নিয়ে সংশয় আছে।
অনেক বিশ্লেষক ও উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিরা আগে ধারণা করেছিলেন, দেশটির প্রথাগত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার কারণে একজন নারী নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। এছাড়া কিম জং উন এখনো তুলনামূলকভাবে তরুণ ও সুস্থ দেখালেও কেন তিনি এত অল্প বয়সে, মাত্র ১৩ বছর বয়সি এক সন্তানকে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করছেন তাও স্পষ্ট নয়। কিম জু আয়ের সম্ভাব্য উত্তরাধিকার উত্তর কোরিয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, সেটিও অনিশ্চিত।
কিম জং উন যখন তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হন, তখন অনেক উত্তর কোরীয় আশা করেছিলেন যে পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত এই তরুণ নেতা দেশকে বাইরের বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করবেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। ভবিষ্যতে কিমের মেয়ে দেশের জন্য কী পরিকল্পনা করবেন, তা এখনো অজানা। তবে তিনি যদি ক্ষমতায় আসেন, তবে দেশটির ভবিষ্যৎ গঠনে তারই থাকবে একক কর্তৃত্ব।
সূত্র: বিবিসি