ডেস্ক নিউজ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর আজ প্রথমবারের মতো নতুন সরকার গঠনে ভোট দিয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। এই নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছেন বিদেশি প্রতিনিধিরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান ও সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেভিড ড্রেয়ার নির্বাচনকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঢাকার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ এক রোমাঞ্চকর দিন। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসে আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আনন্দ ও নির্বাচনী আমেজ দেখেছি, তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।
তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বজায় ছিল। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক নিঘাত সিদ্দিকীও নির্বাচনের পরিবেশকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও আন্তরিক বলে অভিহিত করেছেন। বেশ কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, মানুষ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। পরিবর্তনের পক্ষে এই ‘হ্যাঁ-না’ ভোটে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী, তরুণ ও প্রবীণদের দীর্ঘ সারি প্রমাণ করে যে নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পুরো ব্যবস্থাপনাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছেন। ১০ লাখেরও বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। বিকেল পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে গড় ভোটার উপস্থিতির হার রেকর্ড করা হয়েছে ৪৭.৯ শতাংশ। তবে চূড়ান্ত ফলাফল ও সঠিক উপস্থিতির হার জানতে আরও কিছু সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কমিশন সচিবালয়।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৬ লাখেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায় মূলত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যেই মূল লড়াই হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
কিউএনবি/আয়শা/১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:৩০