মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

গণভোটের প্রচারণা চালাতে নির্বাচনের সময় ৫০তম বিসিএস পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে পিএসসিকে স্মারকলিপি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭৮ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে নির্বাচনের সময়ে সকল চাকরি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করার পর এবার ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে পাবলিক সার্ভিস কমিশন(পিএসসি) কে স্মারকলিপি দিয়েছেন করেছে চাকরি প্রত্যাশী পরীক্ষার্থীরা।

আজ ২০ জানুয়ারি(২০২৬)মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন(পিএসসি) তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জালাল আহমদের নেতৃত্বে চাকরি প্রার্থীদের একটা প্রতিনিধি দল এই স্মারকলিপি প্রদান করেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থী এনামুল হক জমিদার,আল আমিন, মেহেরাজ হোসেন,মাহমুদুল হাসান, ফারজানা জাহান, ইশা জাহান প্রমুখ।

স্মারকলিপি প্রদানের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের কে প্রেস ব্রিফিং করেন কোটা সংস্কার আন্দোলন (২০১৮ এবং ২০২৪) এর আইন ও আদালত সেলের প্রধান সমন্বয়কারী জালাল আহমদ। তিনি জানান,”আমরা বাংলাদেশের তরুণ ভোটাররা দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় মত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। আগামী ২১ জানুয়ারি তারিখ থেকে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনকালীন এই সময়টি তরুণ ভোটারদের জন্য গণতান্ত্রিকভাবে সচেতন হওয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”তিনি আরো বলেন,”নির্বাচনকালীন সময়েই ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থাকায় তরুণ ভোটারদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে জাতীয় নির্বাচনে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার চাপ—এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি তরুণদের স্বাভাবিক মনোযোগ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।”

তিনি আরো বলেন,”এবারের নির্বাচনে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য নির্বাচনের প্রচারণার দিন ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল চাকরি পরীক্ষা স্থগিত করতে গত ১৮ জানুয়ারি আমরা নির্বাচন কমিশন অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম ।সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। তাই নির্বাচন কমিশন নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে সকল চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে পারে। আজকে আমরা ফর্মালিটি বজায় রাখতে পিএসসিতে স্মারকলিপি দিয়েছি ।এবারের নির্বাচনে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য নির্বাচনের প্রচারণার দিন ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল চাকরি পরীক্ষা স্থগিত করা অত্যন্ত জরুরী।”

কয়েকজন চাকরি প্রার্থী জানান,”বিসিএস পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ছোটখাটো বিভিন্ন পেশায় (শিক্ষকতা, ব্যাংকিং, সরকারি-বেসরকারি চাকরি) নিয়োজিত আছেন। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী ট্রেনিং ও আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম চলবে। ২৫ জানুয়ারির পর থেকে সরকারি নির্দেশনায় কোনো চাকরিজীবী ছুটি নিতে পারবেন না। এমতাবস্থায়, যারা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন এবং যাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, তারা ৩০ তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে আমাদের অবগত করেছেন। এটি তাদের প্রতি চরম অবিচার।”

তারা আরো বলেন,”নির্বাচনী প্রচারণার সময় সব দলের দিন-রাত বিরামহীন মাইকিং, সাউন্ড সিস্টেম এবং মিছিল-মিটিংয়ের কারণে পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য মানসিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা অসম্ভব।”

এ সময় তারা দুই দফা দাবি উত্থাপন করেন।

১. আগামী ২১ তারিখের পর থেকে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। ২. একই সময়সীমার মধ্যে পিএসসি’র অধীনে বাংলাদেশের সকল সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ।

কিউএনবি/আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৮:৩৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit