আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নামে ‘নিখুঁত নিশানা’ হলেও বাস্তবে এটি যেন এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নতুন একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম ব্যবহারেই এমন ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর এটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রাণঘাতী কণা বা পেলেট ছড়িয়ে দেয়। আর এতেই বিস্ফোরণস্থলের অনেক দূরে থাকা নিরীহ শিশু ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে ইরানের লামার্দ শহরে। বার্তা সংস্থা এপি এবং নজরদারি সংস্থা ‘এয়ারওয়ারস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী লকহিড মার্টিনের তৈরি ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ বা পিআরএসএম (PrSM) প্রথমবারের মতো এখানে ব্যবহার করে। শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও দুটি আবাসিক এলাকায় তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতটি নিষ্পাপ শিশুও ছিল।
হামলার ধ্বংসযজ্ঞ ছিল অকল্পনীয়। নিজের বাড়ির সামনে খেলছিল দুই বছরের শিশু আভিনা। বিস্ফোরণস্থলের ৫০ মিটার দূর থেকে প্রচণ্ড বেগে ছিটকে আসা একটি কণা নিভিয়ে দেয় তার জীবন প্রদীপ। এমনকি ১৭০ মিটার দূরের একটি স্কুলও এই হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে এটিকে নিজেদের ‘ঐতিহাসিক প্রথম’ ব্যবহার বলে গর্ব করেছিল। তবে পরে এপি-র কাছে তারা এই প্রাণহানির দায় অস্বীকার করে।
তবে এত বেসামরিক মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও থেমে নেই পেন্টাগন। উল্টো এই ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন চার গুণ বাড়াতে সম্প্রতি লকহিড মার্টিনের সঙ্গে তারা ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল চুক্তি করেছে।
কিউএনবি/অনিমা/০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১২:২০