আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কত দ্রুত ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তবে বৈশ্বিক পরিসংখ্যান বলছে, নেপালের এই ঘটনা মোটেও কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়; বরং বিশ্বজুড়েই প্রকৃতির রোষানলের শিকার হচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ।
হিমালয়ের চীনা অংশেও এবারের বিপর্যয়ের বড় আঁচ লেগেছে। সেখানে এরই মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে। স্বজনদের খোঁজে দিশেহারা পরিবারগুলো; নিখোঁজরা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, সেই শঙ্কার পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে এখন চরম খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন সময় একই চিত্র দেখা গেছে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও। ২০২৫ সালে পাকিস্তানে বন্যায় প্রাণ হারান এক হাজারেরও বেশি মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রায় ৬৯ লাখ। একই বছরে ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। আর নাইজেরিয়ার মোকওয়ায় বন্যায় অন্তত ৫০০ জনের মৃত্যু হয়; নিখোঁজ ৬০০ মানুষকেও মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের বৈশ্বিক পরিসংখ্যানে বরাবরই শীর্ষে থাকছে বন্যা। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই অন্যান্য দুর্যোগের চেয়ে বন্যার দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালে যেখানে ২৮টি ভূমিকম্প ও ১৯টি দাবানল হয়েছিল, সেখানে বন্যার ঘটনা ঘটেছিল ২২২টি!
এই দুর্যোগের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে। কেবল ২০২৫ সালেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত বা ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ৩ কোটি (২৯.৯ মিলিয়ন) মানুষ। মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির মেরুদণ্ডও ভেঙে দিচ্ছে বন্যা।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে কেবল বন্যাতেই বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। সংখ্যায় কম হলেও দাবানল বা ভূমিকম্পের আর্থিক ক্ষতিও নেহায়েত কম নয়। তবে বারবার আঘাত হেনে মানুষের জীবনকে দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গু দশায় ফেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বন্যার ধ্বংসলীলাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।
কিউএনবি/অনিমা/০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সকাল ১০:০০