মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম

নেপালে এখনও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩, চলছে উদ্ধার অভিযান

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়েছেন নয় শতাধিক শ্রমিক। কাদা ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে বরফ, কাদা ও পাথরের যে বিধ্বংসী ঢল নেমেছিল, তাতে সোমবার পর্যন্ত নেপালে ৯০৩ জন এবং চীনের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ২৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

দুই দেশ মিলিয়ে এখনও প্রায় পৌনে ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা শত শত পচতে শুরু করা মরদেহ সমতলের অগভীর কবরে দাফন করা হচ্ছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রকল্পে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি সুড়ঙ্গগুলোতে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে গেছে। ফলে ভেতরে পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গার্ডিয়ান জানায়, বন্যা শুরুর পর কিছু শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন। পরে যারা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তারা জানিয়েছেন, অনেক সহকর্মী এখনো ভেতরে আটকা রয়েছেন।

নেপাল ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি গার্ডিয়ানকে বলেন, বন্যা শুরু হওয়ার পর কিছু শ্রমিক সুড়ঙ্গ থেকে সাহায্য চেয়েছিলেন। যারা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তাদের কাছ থেকেও জানা গেছে, অনেক শ্রমিক ভেতরে রয়ে গেছেন।

নেপাল সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের মূল নজর এখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই জেলা, রসুয়া ও নুওয়াকোটের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী ও প্রকৌশলীকে উদ্ধারের কাজে, যারা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে রয়েছেন।

সুড়ঙ্গগুলোতে জমে থাকা ভারি কাদা ও পাথরের স্তূপ সরাতে সুনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, এক্সকাভেটর ও সার্চলাইট ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত গার্ডিয়ানকে বলেন, প্রচুর পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের ভেতর ও মুখে জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

রবিবার রাতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বন্যাকে ‘নজিরবিহীন ও প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দুর্গম ভূপ্রকৃতি সত্ত্বেও ২১ হাজারের বেশি সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধার অভিযানে কাজ করছেন।

অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকও আছেন।

সেখানে ২,১০০-র বেশি উদ্ধারকারী মোতায়েন ও ত্রাণ তহবিলে ২২০ মিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হিমবাহ ধসের স্থানে গঠিত কৃত্রিম গহ্বরটি বড় হয়ে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ১৭৪,০০০ বর্গমিটারে পৌঁছেছে, যেখানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। এর বাঁধ ভাঙলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের প্লাবন হতে পারে।

ওদিকে, দুর্যোগের পর নদী ও হিমবাহের ডেটা চীন সময়মতো শেয়ার করছে না বলে অভিযোগ করেছেন নেপালের দুজন কর্মকর্তা।

তবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, তারা নেপালকে নিয়মিত আবহাওয়া ও হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য সরবরাহ করে আসছে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় কাঠমান্ডুকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। 

কিউএনবি/অনিমা/০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ১২:৪২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit