ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল মিলনায়তনে ১৫ তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী দিনব্যাপী এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমীর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগমের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ স্বাগত বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমীর সচিব অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নূর ই তাজ জাহান তন্বী অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “সমাজের সর্বত্র বিজ্ঞান চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অলিম্পিয়াডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বিজ্ঞানমনস্ক জাতি তৈরি করা প্রয়োজন। সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা সমাজকে নিয়ে চলতে চাই। শুধু সরকার আর সরকারি দল দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চলে না। আমি আমার হাত বাড়িয়ে রেখেছি। আশা করছি আপনি আমার হাত ধরবেন। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হলো। অন্যদিন অন্য জায়গায় আয়োজনটি হবে।
এভাবেই আমাদের বিজ্ঞান চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞান চর্চাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবেনা। এটিকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।আমরা সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্র্যাকটিসিং জগতের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তরোত্তর শক্তিশালী করতে চাই। সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতি আমাদের প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্র্যাকটিসিং জগতের সঙ্গে একাডেমিক জগতের মেলবন্ধন শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, তরুণ সমাজকে বিজ্ঞান মনস্ক ও বিজ্ঞান শিক্ষায় উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী প্রতি বছর বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। এ বছর বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগ থেকে ৫৪৮ জন প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ দুই গ্রুপে শিক্ষার্থীরা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে। দুই পর্বে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন অংশগ্রহণকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
দুই গ্রুপের প্রথম ১০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি, মেডেল, সনদপত্র ও বিজ্ঞান বিষয়ক বই দেওয়া হয়। অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৬ হাজার টাকা, তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৫ হাজার টাকা ও বাকী ৭ জনকে ৪ হাজার টাকা করে প্রাইজ মানি দেওয়া হয়।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:২৮