আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবার ইরানের ধর্মীয় এক উৎসবে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ওদিকে আট দিন ধরে টানা বন্ধ থাকার পর ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারে একেবারে সামান্য উন্নতি লক্ষ করা গেছে। ধীরে ধীরে জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নতুন করে সেখানে আর কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। খবর এপি, রয়টার্স, আলজাজিরার।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী এই ষড়যন্ত্রটি ছিল ভিন্ন। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ দেশজুড়ে ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেন খামেনি।
তিনি বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত শক্তিগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানকে নাড়িয়ে দেওয়া এই বিক্ষোভে বিদেশি শক্তিগুলোই ইন্ধন জুগিয়েছে।
সতর্ক করে দিয়ে খামেনি বলেছেন, ইরান সীমান্তের বাইরে সংঘাতের বিস্তার ঘটাবে না। তবে যাদের দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে, তারা পরিণতি এড়াতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধে জড়াব না। কিন্তু দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদেরও আমরা ছাড় দেব না। তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, আমরা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দায়ী মনে করি। তিনি বলেন, এটি মার্কিন ষড়যন্ত্র।
খামেনি বলেন, আমেরিকার লক্ষ্য হলো ইরানকে গ্রাস করা। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে আবারও মার্কিন সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের অধীনে নিয়ে যাওয়া।
এদিকে সরকার রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় ইরানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মার-এ-লাগো
রিসোর্টে সপ্তাহিক ছুটি কাটাতে যাওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ৮০০-এর বেশি মানুষের ফাঁসি বাতিল করেছে। তাদের এই সিদ্ধান্তকে আমি অত্যন্ত সম্মান জানাই।’
প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ইরানের এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি জানান, ইরানে ৮০০-র বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল, যা এখন আর হচ্ছে না। ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘ধন্যবাদ!’
রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে সারা দেশে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন অনেকটা কমে এসেছে। সর্বসাধারণ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর মারাত্মক দমনের কারণে রাস্তায় প্রতিবাদ এখন খুব কম দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় আরও কিছু গ্রেফতারের খবর এসেছে।
তেহরানসহ অনেক শহরের বাসিন্দা জানিয়েছেন, রোববার থেকে রাস্তাঘাট অনেকটাই শান্ত। আকাশে ড্রোন উড়ছে, সব জায়গাতেই নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা, থমথমে পরিস্থিতি। বৃহস্পতি-শুক্রবার কোনো বড় প্রতিবাদ দেখা যায়নি। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাউ গ্রুপ বলেছে, রোববারের পর কোনো বড় সমাবেশ হয়নি, তবে নিরাপত্তা পরিবেশ খুব কঠোর।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:৩৮